যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ভেনেজুয়েলা সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
কারাকাসে বিস্ফোরণ ও বিমান চলাচলের খবর ট্রাম্প প্রশাসন অবগত বলেও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়। সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণ এবং বিমান হামলার খবর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: কারাকাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার আশঙ্কা!
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বছরের শেষ গত বুধবারও (৩১ ডিসেম্বর) আরও চাপ বাড়াতে দেশটির তেল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আর এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় হামলা ঘটনা ঘটলো।
গত তিন মাস ধরে মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় একের পর নৌকায় হামলা চালিয়ে আসছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব নৌকায় মাদক বহন করা হচ্ছিল। তবে সেগুলো যে সত্যিই মাদক বহন করছিল তার কোনো প্রমাণ এখনো দেয়নি তারা। মানববাধিকার গোষ্ঠীগুলো এসব হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।