ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের উত্তেজনাপূর্ণ রাতটিতে ইতিহাস রচনা করলেন এক কিশোর প্রতিভা। মাত্র ১৬ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা সোমবার রাতে নিউক্যাসলের মাঠে লিভারপুলের হয়ে গোল করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তিনি হয়ে গেলেন লিভারপুলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা।
সেন্ট জেমস’ পার্কে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে এনগুমোহা দলের জয়সূচক গোলটি করেন। ম্যাচটি শেষ হয় ৩-২ ব্যবধানে, আর সেই জয়ে চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল পেল তিন পয়েন্ট। এনগুমোহা তার ডেবিউ ম্যাচেই নায়ক হয়ে উঠলেন।
নাটকীয় সূচনা
ম্যাচের ১০০তম মিনিটে যখন লিভারপুল আক্রমণে যায়, তখনই তৈরি হয় সেই সোনালি মুহূর্ত। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা এনগুমোহা প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে শট নেন এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান। এমন চাপের মুহূর্তে কিশোর খেলোয়াড়দের সাধারণত খুব একটা সুযোগ দেওয়া হয় না। কিন্তু এনগুমোহা প্রমাণ করলেন তার মানসিক দৃঢ়তা এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা।
এর ফলে তিনি প্রিমিয়ার লিগে গোল করা চতুর্থ ১৬ বছর বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখালেন। তবে লিভারপুলের হয়ে সবচেয়ে কনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন।
চেলসি থেকে লিভারপুল যাত্রা
রিও এনগুমোহা ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লন্ডনের ক্লাব চেলসির একাডেমিতে। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি সেই একাডেমিতে ভর্তি হন এবং প্রায় এক দশক ধরে প্রতিভা লালন করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে তিনি চেলসি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ইংরেজ গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, লিভারপুলের স্কাউটরা এনগুমোহাকে প্রথম দলে খেলার স্পষ্ট সুযোগের নিশ্চয়তা দেন। চেলসিতে যেখানে তরুণদের দলে ওঠা কঠিন, সেখানে লিভারপুল প্রতিশ্রুতি দেয় দ্রুত প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা পাওয়ার। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই এনগুমোহা এত দ্রুত আলোচনায় চলে এলেন।
পরিবার ও শিকড়
২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট লন্ডনে জন্ম রিও এনগুমোহার। তার বাবা-মা নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভূত। ফলে তার শিকড় নাইজেরিয়ায় হলেও জন্মভূমি ইংল্যান্ডেই ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলে অনুরাগী এনগুমোহা তার দুই আইডলের নাম বারবার উচ্চারণ করেছেন—লিওনেল মেসি এবং নেইমার। ব্রাজিলিয়ান ও আর্জেন্টাইন এই দুই কিংবদন্তির খেলা দেখে তিনি নিজেকে অনুপ্রাণিত করেন।
আগামীর তারকা
লিভারপুলের সমর্থকদের কাছে এই মুহূর্ত নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত। বয়সে কেবল ১৬ হলেও এনগুমোহা দেখিয়েছেন সাহস, গতি এবং খেলায় বুদ্ধিমত্তা। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সঠিকভাবে লালন-পালন করা যায়, তবে তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ তারকা হয়ে উঠতে পারেন।
ক্লাব ও জাতীয় দলে একসাথে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এনগুমোহা। ১৭তম জন্মদিনের আগেই নিজের নাম প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে লিখে ফেলেছেন তিনি। এই অর্জন নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের প্রথম বড় সাফল্য।
ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে রিও এনগুমোহা নামের এই কিশোর প্রতিভার দিকে। লিভারপুলের জার্সিতে তার এই রূপকথার শুরু কোথায় গিয়ে শেষ হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।