গোলবন্যার রাতে বার্সেলোনার নতুন ইতিহাস

রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর ধাক্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতিতে গিয়েছিল বার্সেলোনা; কিন্তু কে জানত, সেই ধাক্কা ভেতরে ভেতরে তাতিয়ে দিয়েছিল লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

যার ঝড়টা গত রাতে গেল ভ্যালেন্সিয়ার ওপর দিয়ে। লা লিগায় নিজেদের অস্থায়ী ঘরের মাঠে খেলতে নেমে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বার্সার জয় ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। বার্সার জয়ে রবার্ট লেভানডফস্কি, রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেজ দুটি করে গোল করেছেন। রাফিনিয়া ও লেভানডফস্কি জোড়া গোল করেছেন বদলি নেমে, যা লিগায় এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। লা লিগার ইতিহাসে এবারই প্রথম একই দলের দুই বদলি খেলোয়াড় এক ম্যাচে দুটি করে গোল করেছেন।

নতুন করে তৈরি হওয়া ক্যাম্প ন্যু এখনো খোলার অনুমতি না পাওয়ায় বার্সাকে ছয় হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইয়োহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামে খেলতে হয়। মাঠ ছোট হলেও বার্সার পারফরম্যান্সে সেটির কোনো প্রভাব পড়েনি। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়ে বড় জয় পায় কাতলান ক্লাবটি। এ জয়ের ফলে শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। ৪ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ১২ এবং বার্সার ১০।

বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে ইয়ামালের অনুপস্থিতি দলকে বুঝতে দেননি বাকিরা। প্রথমার্ধের শুরুতে আধিপত্য বিস্তার করেও গোলের পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না বার্সেলোনা।

বার্সার গোল উদ্‌যাপন

ফেরান তোরেস ও মার্কাস রাশফোর্ড একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথম গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ২৯ মিনিট পর্যন্ত। তোরেসের সহায়তায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লোপেজ। ম্যাচের প্রথামার্ধে ভ্যালেন্সিয়া একটিও শট নিতে পারেনি।

বিরতির পর ফ্লিক বদলি হিসেবে নামান রাফিনিয়াকে। এর পরই মূলত বদলে যায় খেলার দৃশ্যপট। রাশফোর্ডের ক্রস থেকে প্রথমে গোল করেন রাফিনিয়া। তিন মিনিট পর দূরপাল্লার শটে দ্বিতীয়বার জাল খুঁজে পান লোপেজ। এরপর কাছ থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া।

গোলের পর ফেরমিন লোপেজ

শেষ দিকে বদলি নামেন অভিজ্ঞ রবার্ট লেভানডফস্কি ও দানি ওলমো। ওলমোর পাস থেকে গোল করেন পোলিশ স্ট্রাইকার লেভা। ৮৬ মিনিটে মার্ক বের্নালের পাস থেকে দলের ষষ্ঠ ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লেভা।

ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক বলেছেন, ‘শুরু থেকেই আমরা দেখিয়েছি কী করতে চাই, সেটিই করে দেখিয়েছি। দল প্রতিটি পজিশনে দুর্দান্ত ছিল। আর আমার জন্য দারুণ ব্যাপার হলো আমাকে ফেরান (তোরেস) আর লেভানডফস্কির মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে হচ্ছে।’

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *