পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সদ্য স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (এসএমডিএ) ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। চুক্তির পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—সৌদি আরব কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে?
গত সেপ্টেম্বরে রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও পাকিস্তানের পারমাণবিক অভিজ্ঞতার মধ্যে এক ধরনের কৌশলগত মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ প্রথমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা সৌদি আরবকে সহায়তা করতে পারে। যদিও পরবর্তীতে তিনি স্পষ্ট করেন, পারমাণবিক অস্ত্র এই চুক্তির অংশ নয়। তবুও তাঁর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনে আগ্রহী। দেশটির বিদ্যুতের বড় একটি অংশ এখনও তেল ও গ্যাসভিত্তিক। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদির ৩২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি তেল ব্যবহার করা হয়। গ্রীষ্মকালে এই চাপ আরও বাড়ে। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বিকল্প হিসেবে দেখছে রিয়াদ।
তবে নিরাপত্তা উদ্বেগই সৌদি আগ্রহের বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইসরায়েলের পরমাণু সক্ষমতা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি সৌদি আরবকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর রিয়াদের আস্থা কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো হাসান আল-হাসানের মতে, ইসরায়েলের তুলনায় কৌশলগত সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকা সৌদি আরব এই চুক্তির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে।
চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশ আক্রান্ত হলে তা উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত নিরাপত্তা সমন্বয় আরও জোরদার হতে পারে।
যদিও সৌদি আরব প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা অস্বীকার করছে, বিশ্লেষকদের ধারণা—এই প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক রাজনীতিতেও।