ভারতীয় পণ্যে আরোপ করা ২৫% বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর ইতিপূর্বে আরোপ করা অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

চলতি সপ্তাহে ঘোষিত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের সই করা এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ‘ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কিনবে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি রূপরেখা তৈরিতেও সম্প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে ভারত।

এ অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে কার্যকর হবে।

ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাতে বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিন পরই এ নির্বাহী আদেশ জারি করলেন। ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্কের হারও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। তবে শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

গতকাল হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক তুলে নেওয়া হচ্ছে। দেশটি আগামী পাঁচ বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি, উড়োজাহাজ, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু ও কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করছে।

গত বছরের শেষ দিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে তা বড় আকারে হ্রাস পেয়েছে। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছিল, এ চুক্তির মাধ্যমে তারও অবসান ঘটল।

একই সঙ্গে এ পদক্ষেপ ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করল। ট্রাম্প বিভিন্ন সময় মোদিকে তাঁর ‘অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে অভিহিত করেছেন।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ১৮ শতাংশ শুল্ক হারের কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাবেন। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *