ঢাকা-আইডিয়াল কলেজের মধ্যে শান্তি চুক্তি

রাজধানীর ঢাকা কলেজ ও আইডিয়ালের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে শান্তি চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (০৯ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা কলেজের আ ন ম নজিব উদ্দিন খুররম অডিটোরিয়ামে অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াসের সভাপতিত্বে এ চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় এক কলেজের শিক্ষার্থী অন্য কলেজকের শিক্ষার্থীদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেয়। 

শিক্ষার্থীরা জানান, বিগত কয়েক বছরে কিছু ভুল বোঝাবুঝি, প্রতিযোগিতা ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু আমরা কেউই চাইনি এই সম্পর্ক চিরকাল খারাপ থাকুক। বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্বই আমাদের শক্তি। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আরেকবার কোনো দ্বন্দ বা বিবাদ আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হবে না। আমরা একসাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামূলক কার্যক্রমে অংশ নেবো, পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখব এবং ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ইস্রাফিল মহিমা বলেন,  আপনারা অবগত আছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে কিছু বিচ্ছিন্ন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ঢাকা কলেজ এবং আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক সময় আমরা মুখোমুখি অবস্থানেও গিয়েছি। কিন্তু আমরা কেউই এই সম্পর্ককে এমন অবস্থায় দেখতে চাই না। এই সম্পর্ক বন্ধুত্বের, সহযোগিতার, ভ্রাতৃত্বের এটাই হওয়া উচিত। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, দুই কলেজের শিক্ষকবৃন্দের সম্মিলিত উদ্যোগে আজ আমরা একত্রিত হয়েছি মিলবন্ধনের এই সুন্দর আয়োজনে।

বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, এক হৃদয়ে, এক লক্ষ্যে রাজপথে লড়ে গেছি। ফাঁসিবাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, উত্তপ্ত সায়েন্সল্যাবের রাজপথে আমরা একের পর এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। সেই সময় কে ঢাকা কলেজ, কে আইডিয়াল কলেজ আমাদের বড় পরিচয় ছিল শুধুমাত্র ছাত্র। ঠিক তেমনভাবেই আগামী দিনেও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা কলেজ এবং আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের ভিত্তিতেই আমরা সামনের পথে এগিয়ে যাবো।

আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী তৌফিক বলেন, ঢাকা কলেজ এবং আইডিয়াল কলেজ দুই প্রতিষ্ঠানই একই এলাকার, একই সমাজের, একই দেশের শিক্ষার্থী। কিন্তু বিভিন্ন ভুল বোঝাবুঝি ও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে আমাদের মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো। আজ এখানে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে এই ভুল ধারণা পরিষ্কার করতে এসেছি। আমরা সবাই ভাই ভাই। ভাইদের মধ্যে হয়তো কখনো ছোটখাট ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু আমরা চাই না সেটি শত্রুতায় পরিণত হোক। আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের শিক্ষকদের মান-সম্মান, এবং আমাদের নিজস্ব পরিচয় এসব কিছুই আমাদের নিজেদের হাতে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিযোগিতা হবে মেধায়, ফলাফল অর্জনে, মারামারির মাধ্যমে নয়। ইনশাআল্লাহ আমরা দেখিয়ে দিতে পারবো যে, আমরা যে কলেজ থেকেই পড়ি না কেন আমরা ভদ্র, সচেতন, সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি।

একে অপরকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তৌফিক বলেন, এখন আমাদের দায়িত্ব এই শান্তিচুক্তি বা সমঝোতা আগামীদিনে ধরে রাখা। আমাদের চলাচল ও পড়াশোনা সবকিছুতে আমরা যেন একে অপরকে ভাইয়ের মত সহযোগিতা করি। আমরা মিলেমিশে থাকলে পরিবেশ সুন্দর থাকবে এবং আমরা নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারব। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি এই বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি শেষ পর্যন্ত যেন বজায় থাকে।

নিউমার্কেট থানার ওসি কেএম মাহফুজুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে অনেক সময় খুব ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকেই বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। অথচ অনেকেই জানেই না আসলে সমস্যাটা কোথায়। একেবারেই তুচ্ছ ঘটনা এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু যখন দুই পক্ষের সাথে সরাসরি কথা বললাম, আসলে কোনো বিরোধই নেই। সবাই মিলেই থাকতে চায়, ভাই হিসেবে একসাথে চলতে চায়।

তিনি আরও বলেন, আজ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে আইডিয়াল কলেজের ভাইদের বরণ করেছে, আর আইডিয়াল কলেজ এসেছে মিষ্টি নিয়ে এটাই প্রকৃত বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা। আমি বিশ্বাস করি এই সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় হবে, ইনশাআল্লাহ। আর তা বজায় রাখতে আমি আমার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো।

শিক্ষার্থীদের মূল দায়িত্ব তুলে ধরে মাহফুজুল হক বলেন, তোমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো পড়াশোনা, নিজের ভবিষ্যত গড়ে তোলা এবং পরিবার-সমাজ-দেশের জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে তোলা। সংঘাত কোনো সমাধান নয়, সমাধান হলো বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া ও ভ্রাতৃত্ব। ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ভাই ভাই, আমাদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই।

সিটি কলেজ আজ আসতে পারেনি, তবে খুব শিগগিরই সবাই একসাথে আরও বড় পরিসরে মিলিত হবে বলে জানান ওসি।

সভাপতিত্বের বক্তব্যে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ঢাকা কলেজ এবং আইডিয়াল কলেজ দুটি প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী এবং সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘর্ষের কারণে আমাদের শিক্ষাজীবন ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছিল। এ অবস্থার অবসান খুবই জরুরি ছিল। তাই আজকের এই শান্তি ও সম্প্রীতির উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা চাই দুই কলেজের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব এবং শিক্ষাবিনিময় আরও জোরদার হোক। সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে আমরা একে অপরের সহযোগী হবো। ভবিষ্যতে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দুই পক্ষই অপরাধীকে শনাক্ত করবে এবং সমস্যার সমাধান করবে কোনো প্রকার সাধারণ বিরোধে পুরো প্রতিষ্ঠান জড়াবে না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষা গ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। তাই আগের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে আমরা সম্প্রীতির পথেই এগিয়ে যেতে চাই।

এছাড়াও আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি, ট্রল আর উস্কানি আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিল। এর জন্য দায়ী কোনো কলেজ নয় দায়ী ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার।প্রতিযোগিতা খারাপ নয় কিন্তু প্রতিযোগিতা হবে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পড়াশোনা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে। আমরা একসাথে ক্রিকেট খেলব, ফুটবল খেলব, কুইজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা করব বিবাদে নয়। ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ভাই ভাই এ সম্পর্ক যেন আজ থেকে আরও দৃঢ় হয়। 

ঢাকা কলেজের চলমান মামলা প্রত্যাহারে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন,   আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিনয়ের সাথে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি—যদি সম্ভব হয় মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এই বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

এছাড়াও আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি, ট্রল আর উস্কানি আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিল। এর জন্য দায়ী কোনো কলেজ নয় দায়ী ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার।প্রতিযোগিতা খারাপ নয় কিন্তু প্রতিযোগিতা হবে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পড়াশোনা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে। আমরা একসাথে ক্রিকেট খেলব, ফুটবল খেলব, কুইজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা করব বিবাদে নয়। ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ভাই ভাই এ সম্পর্ক যেন আজ থেকে আরও দৃঢ় হয়। 

ঢাকা কলেজের চলমান মামলা প্রত্যাহারে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিনয়ের সাথে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি যদি সম্ভব হয় মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এই বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *