ডার্বিতে সিটিকে উড়িয়ে ইউনাইটেডের দুর্দান্ত শুরু

মাইকেল ক্যারিক যেন জাদু জানেন! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায়টা এর চেয়ে দারুণভাবে শুরু করার কথা তিনিও হয়তো ভাবেননি। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আজ বিকেলটা ছিল শুধুই ইউনাইটেডের। ব্রায়ান এমবুয়েমো আর প্যাট্রিক দরগুর দুই গোলে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটিকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে রেড ডেভিলরা। এই হারে সিটির প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্নে বড় এক ধাক্কা লাগল।

গত কয়েকদিনের গুমোট ভাব কাটিয়ে আজ যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল ওল্ড ট্রাফোর্ড। গ্যালারিতে স্যার অ্যালক্স ফার্গুসনের সেই চেনা হাসি মুখ আর সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ। উল্টো চিত্র ছিল সিটি শিবিরে। ম্যাচের ১০ মিনিট বাকি থাকতে যখন আর্লিং হলান্ডকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল, ইউনাইটেড সমর্থকেরা তাঁকে খোঁচা দিলেন হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে। গোলমেশিন হলান্ড আজ ছিলেন একেবারেই নীরব!

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোল উদযাপন

সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা না থাকলে হারের ব্যবধানটা হতে পারত বিশাল। দরগু, আমাদ দিয়ালো আর কাসেমিরোদের একের পর এক নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে সিটিকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন এই ইতালিয়ান দেয়াল।

কিন্তু সেই দেয়ালও ভাঙল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ৬৫ মিনিটে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পান ব্রায়ান এমবুয়েমো। আফ্রিকান কাপ অব নেশনস খেলে ফেরা এই ক্যামেরুনিয়ান ফরোয়ার্ড বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন। পুরো ওল্ড ট্রাফোর্ড তখন উল্লাসে মাতোয়ারা।

এর ১১ মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইউনাইটেড। সিটির ডিফেন্ডার রিকো লুইস বল ক্লিয়ার করতে একটু দেরি করে ফেলেছিলেন, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগান প্যাট্রিক দরগু। ম্যাথুস কু্নিয়ার ক্রস থেকে বল কেড়ে নিয়ে জালে জড়াতে ভুল করেননি তিনি।

ইউনাইটেডের ভাগ্য আরেকটু সুপ্রসন্ন হলে গোলের সংখ্যাটা হতে পারত ৫-০। অফসাইডের কারণে তাদের তিনটি গোল বাতিল হয়, আর দিয়ালোর শট ফিরে আসে গোলপোস্টে লেগে। অন্যদিকে সিটির হলান্ড যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। সর্বশেষ ৭ ম্যাচে তার গোল মাত্র একটি। ম্যাচে ফেরার নুন্যতম তাড়নাও কাল সিটির খেলায় দেখা যায়নি।

গ্যালারিতে যখন ক্যারিকের নামে জয়ধ্বনি চলছে, ডাগআউটে তখন মাথায় হাত দিয়ে বসে পেপ গার্দিওলা। লিগে টানা চার ম্যাচ জয়হীন সিটি এখন শিরোপার দৌড়ে অনেক পিছিয়ে পড়ল। আজ রাতে আর্সেনাল যদি নটিংহাম ফরেস্টকে হারিয়ে দেয়, তবে গার্দিওলার দল শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে যাবে প্রায় ৯ পয়েন্ট পেছনে।

অন্যদিকে ম্যাচ শেষে নতুন কোচিং স্টাফদের নিয়ে ক্যারিকের সেই উদযাপনই বলে দিচ্ছিল—ওল্ড ট্রাফোর্ডে আবার সুদিন ফেরার গান বাজছে।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *