ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছর স্থগিত থাকলেই যথেষ্ট: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত করলে তিনি তা মেনে নেবেন। ট্রাম্পের এ কথার মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে, ইরানের এ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি থেকে কিছুটা সরে এসেছে ওয়াশিংটন।

এর আগে ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, ইরানকে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে এবং দেশটিকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি।

তবে ট্রাম্প এবার বলেন, এটি ‘সত্যিকার অর্থে ২০ বছর’ হতে হবে। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী। তবে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে গত মাস থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছু বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি সত্ত্বেও মোটের ওপর টিকে আছে। এ সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি (২০১৫ সালে) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ওই চুক্তির বিরোধিতার অন্যতম কারণ ছিল তথাকথিত ‘সানসেট ক্লজ’। এই ধারাগুলোর কারণে নির্দিষ্ট সময় পর ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সুযোগ ছিল।

অবশ্য যুদ্ধের অবসানে একে অপরের সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করে উভয় পক্ষই এখনো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রস্তাবে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। এর মাধ্যমে লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে।

বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ওই নৌপথ ইরানের অবরোধের কারণে বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

এক সাংবাদিক ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত করা যথেষ্ট নয় বলে ইঙ্গিত করলে ট্রাম্প জবাব দেন, ‘২০ বছরই যথেষ্ট। তবে তাদের পক্ষ থেকে শক্ত নিশ্চয়তা থাকতে হবে। অর্থাৎ সত্যিকারের ২০ বছর হতে হবে।’ অবশ্য এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

গত এপ্রিল মাসে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ন্যূনতম ২০ বছরের শর্ত দেন।

তবে এই প্রথম ট্রাম্প নিজে প্রকাশ্যে ২০ বছরের সময়সীমার কথা বললেন।

ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি (২০১৫ সালে) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ওই চুক্তির বিরোধিতার অন্যতম কারণ ছিল তথাকথিত ‘সানসেট ক্লজ’। এই ধারাগুলোর কারণে নির্দিষ্ট সময় পর ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সুযোগ ছিল।

এদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে ধরা যাবে না।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিরও কড়া বিরোধিতা করেছিলেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি ছিল, ওই চুক্তির সানসেট ক্লজ ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ খোলা রাখবে এবং এতে ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি তৈরি হবে।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *