২০২৫ সালে চীনের জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। টানা চতুর্থ বছরের মতো দেশটির জনসংখ্যা কমেছে, যা আগামী কয়েক দশক ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সোমবার জানায়, ২০২৫ সালে প্রতি এক হাজার জনে জন্মহার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬৩; যা ২০২৩ সালের ৬.৩৯-এর নিচে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে জন্মে যে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তা ব্যতিক্রম ছিল; ২০১৬ সালের পর থেকে চলমান পতনের ধারায় এটি কোনো স্থায়ী ঘুরে দাঁড়ানো নয়।
এদিকে কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতি ৫% হারে বেড়েছে, যা সরকার নির্ধারিত প্রায় ৫% বার্ষিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে চীনা রপ্তানির উল্লম্ফন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বল ভোগব্যয়ের প্রভাব অনেকটাই সামাল দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন-অফ বাণিজ্যযুদ্ধ চললেও গত বছর চীন রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে।
তবে পরিসংখ্যান আরো দেখায়, চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনীতি মন্থর হয়েছে।ওই সময়ে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪.৫%, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন ত্রৈমাসিক বৃদ্ধি।
কর্মকর্তারা অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেন। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কাং ই বলেন, বহির্বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধির মতো জটিল ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এই স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাং বলেন, ২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতি চাপ সহ্য করে স্থিতিশীল অগ্রগতি বজায় রেখেছে এবং উচ্চমানের উন্নয়নে নতুন সাফল্য অর্জন করেছে।
গত বছর চীনে জন্মেছে ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু, অথচ মৃত্যু হয়েছে ১১.৩১ মিলিয়ন মানুষের। ফলে মোট জনসংখ্যা কমেছে ৩.৩৯ মিলিয়ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি, যা এখনো ভারতের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম।