বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করেছে। মঙ্গলবারের পরিবর্তে ৫ ই আগস্ট সোমবার এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
এতে সারা দেশ থেকে আন্দোলনকারীদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। প্রয়োজনে ৫ ই আগস্ট সোমবারই গণভবন ঘেরাও করে সরকারকে পদত্যাগ করানোর ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে আমাদের “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি আগমী মঙ্গলবার থেকে পরিবর্তন করে আগামীকাল সোমবার করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজ অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে খুন করেছে সরকার। চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে। বিশেষ করে আশপাশের জেলাগুলো থেকে সবাই ঢাকায় আসবেন। যাঁরা পারবেন, আজই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান। ঢাকায় এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা রাজপথগুলোতে অবস্থান নিন।’
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘এই ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত স্বাক্ষর রাখার সময় এসে গেছে। ইতিহাসের অংশ হতে ঢাকায় আসুন সকলে। যে যেভাবে পারেন, কালকের মধ্যে ঢাকায় চলে আসুন। ছাত্র-জনতা এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাব।’
ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দেশকে একটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-জনতা যেকোনো মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত। আজকে লাঠি তুলে নিয়েছি। যদি লাঠিতে কাজ না হয়, আমরা অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত। আপনারা প্রতিরোধ করুন, রুখে দাঁড়ান, সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশছাড়া করতে হবে।
আমাদের এক দফা দাবি ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা বাকি। আমাদের যদি গুম–খুন করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয়, যদি ঘোষণা দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, আপনারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আর যদি আমার ভাইদের বুকে গুলি করা হয়, আমার বোনদের কেউ আহত হয়, আমরা বসে থাকব না। পাড়ায়–পাড়ায়, গ্রামে–গ্রামে, মহল্লায়–মহল্লায়, অলিতে–গলিতে প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন। যেখানেই হামলা হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আমরা এই সরকারকে মানি না। এখন থেকে দেশের নেতৃত্ব দেবে ছাত্র-জনতা। ছাত্র-জনতার ঘোষণা চূড়ান্ত ঘোষণা।’