৪৬ জিম্মির ছবি প্রকাশ হামাসের, সবগুলোয় লেখা ‘রন আরাদ’

ফিলিস্তিনের গাজায় এখনো বন্দী থাকা জিম্মিদের ছবি প্রকাশ করেছে হামাস। এগুলোকে ‘বিদায়কালীন’ ছবি বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির সামরিক শাখা। হামাসের ভাষ্যমতে, ইসরায়েল যদি গাজা নগরীতে স্থল অভিযান চালিয়ে যায়, তাহলে এই জিম্মিরা বিপদের মধ্যে পড়বেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। ইসরায়েল থেকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় ২৫১ জনকে। ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্যমতে, তাঁদের মধ্যে ৪৭ জন এখনো গাজায় রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন মারা গেছেন। ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় নৃশংস হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গতকাল শনিবার বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে ৪৬ জিম্মির ছবি প্রকাশ করে হামাস। প্রতিটি ছবিতে রন আরাদের নাম লেখা ছিল। রন ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর একজন পাইলট। ১৯৮৬ সালে লেবাননে গৃহযুদ্ধের সময় তাঁর যুদ্ধবিমান দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ভূপাতিত হয়। তাঁকে লেবাননের শিয়া গোষ্ঠীগুলো আটক করেছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। মরদেহও পায়নি ইসরায়েল।

টেলিগ্রামে ওই পোস্টে ছবিগুলোর পাশে হামাসের সামরিক শাখা আল–কাসেম ব্রিগেড লিখেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একগুঁয়েমি এবং সেনাপ্রধান ইয়াল জমিরের নতি স্বীকার করার কারণে গাজা নগরীতে অভিযান শুরুর সময় এই বিদায়ী ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। তবে এই জিম্মিদের কতজন মারা গেছেন বা জীবিত আছেন, তা পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

গাজায় চলমান নৃশংসতার মধ্যেই গত মঙ্গলবার থেকে গাজা নগরীতে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে সেখানে তীব্র হামলা চালানো হচ্ছে। শহর এলাকাটি থেকে পালিয়েছেন সাড়ে ৪ লাখ ফিলিস্তিনি। এই স্থল অভিযানের বিরোধিতা করে আসছেন জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের মতে, এতে জিম্মিদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই কথা সেনাপ্রধান ইয়াল জমিরেরও।

এদিকে আজ রোববারও গাজা নগরীর বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এদিন সেখানে অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তাঁর দুই শিশুসন্তান। ওই নারীর শ্বশুর মোসাল্লাম আল–হাদাদ রয়টার্সকে বলেন, ‘আমার পুত্রবধূ, তার ছেলে, মেয়ে ও গর্ভে থাকা সন্তান, সবাইকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। আর আমার ছেলের অবস্থা গুরুতর।’

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *