মিসরের সৈন্যদের দেখেই ভয়ে কাঁপছে ইসরাইল

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনীর অধিকারী মিশর।  বহুদিন ধরে যেন ঘুমিয়ে ঘরের পাশে ফিলিস্তিনের মুসলিম ভাইদের এমন দুর্দশাতেও তাদের নির্লিপ্ততায় হতাশ সবাই । তবে একটি ঘটনা নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।

 তবে ঘটনা যাই হোক গাঁজাবাসীকে ঘরবাড়ি ছাড়া করার আমেরিকা এবং ইসরাইলের পরিকল্পনা যে মিশর বাস্তবায়ন করতে বাধা দেবে তা নিশ্চিত।

 সম্প্রতি সিনাই উপত্যকায় বিপুল সৈন্য জড়ো করছেন দেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি । এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনও ফলাও করে প্রচার হচ্ছে ইসরাইলি গণমাধ্যমে ।

সপ্তাহের শুরুতে নেতানিয়াহুর দেশের গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে মিশর গাজার সীমান্তবর্তী উত্তর সিনাইতে সেনা উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে্ কায়রো।

 শুধু তাই নয় বন্দর এবং বিমানঘাটিতেও নতুন নতুন অবকাঠামো তৈরি করেছে দেশটি।  এ নিয়ে রীতিমত ভয় পাচ্ছে ইসরাইল।  এই প্রসঙ্গটি কায়রো এবং ওয়াশিংটনের কাছে উত্থাপন করেছে ইসরাইলি কর্তা ব্যক্তিরা।

 বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কার্টস মিশরকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন,  মিশরকে 1979 সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি লঙ্ঘন করতে দেবে না ইসরাইল।

 যদিও ইসরাইলের অভিযোগকে আমলে নিচ্ছে না সিসির দেশ মিশর।  একজন জ্যেষ্ঠ মিশরীয় কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে কে বলেছেন সিনাই  উপত্যকায় কোনো লঙ্ঘন ঘটেনি।

 বর্তমান সৈন্য সংখ্যা এবং অন্যান্য সামরিক কার্যকলাপ মূল চুক্তি এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ্।  এমনকি একই ইঙ্গিত দিয়েছেন মিশরের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান এবং সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক উপপরিচালক জেনারেল আহমেদ ইব্রাহিম কামেল।

 তার মতেই 2005 সালের একটি সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান সেনা মোতায়নের অনুমতি দেয়া হয়েছিল    যা গাজা উপত্যকার বিপরীতে একটি সম্পূর্ণ সশস্ত্র বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ন স্থাপনের অনুমতি দেয় মিশরকে।

 তার মতে ইসরাইল মিশরকে সমস্যা সমাধানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয় উল্টো সমস্যার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ববাসীকে দেখাতে পছন্দ করে।  আর সেটি গেল দেড় বছর ধরে গাঁজা সংকটে আরো বেশি স্পষ্ট ।

এই চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ইসরাইলের সাথে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মিশরের সামরিক কর্তা ব্যক্তিরা।  তারা বলছেন 2021 সালে রাফা সীমান্ত এলাকাতেও সেনা মোতায়ন করেছিল মিশর।

 মিশরের অভিযোগ এই ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি করে জাতিগত নির্মূলের পথ বেছে নিতে চাইছেন নেতা নিয়াহু সরকার।

 একই কথা বলছেন ইসরাইলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের অধিকারকর্মী আমির মাখুল।  তার মতে এসব উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বোমা হামলা করে মিশরের ভেতরে প্রবেশ করানোই ইসরাইলের মূল লক্ষ্য।

 পাশাপাশি এর মাধ্যমে কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে ইসরাইল।  এর আগে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মিশর এবং আরব বিশ্ব ।

এছাড়া এই ইস্যুতে বিশ্বের সামনে নতুন প্রস্তাবও হাজির করেছে তারা্  এমনকি ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের বিষয়টিকে মিশরের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে রেডলাইন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি্।  

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *