মাঠ থেকে সেনা সদস্যদের পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাঠ পর্যায়ে থাকা সেনা সদস্যদের ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরেছে, তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মাঠ পর্যায়ে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যদের পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

পুলিশবাহিনীকে একটা সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফেরাতে নির্বাচিত সরকার সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘জনমনেও পুলিশের ওপর বিশ্বাস জন্মেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি এ কথা সত্য। তবে, সেটা আমরা কিভাবে করব, পুলিশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থাগুলো বসে তারা পর্যায়ক্রমে সেই ব্যবস্থা নেবে।’

সূত্র জানায়, আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে থাকা সব সেনা সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।গত মঙ্গলবার আইন-শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে সেনা সদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। শুরুতে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানো হবে। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে।জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠ পর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনা নামিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। প্রবল আন্দোলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই থেকে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দেয়।

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই।বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আছে। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

সেনাবাহিনী নিজস্ব ক্ষমতায় গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারত, কিন্তু বর্তমানে তারা এসব কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *