নেপালজুড়ে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি’র পদত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টা পর এবার পদত্যাগ করলেন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল।
জি নিউজ ও এনডিটিভিসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এসব গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল। তবে তার পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এদিকে নেপালি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত করছে যে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে তারা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির দায়িত্ব নিচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় ঐক্য এবং নেপালি জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে নেপালজুড়ে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি পদত্যাগ করেন। মঙ্গলবার রাজধানী কাঠমান্ডুর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় জেন-জি বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরার পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ওলি। দেশটির সেনাবাহিনীও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কেপি ওলিকে সরে যেতে আহ্বান জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ এবং সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোমবার নেপালের তরুণ প্রজন্ম বিক্ষোভ শুরু করলে, তা দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ শুরু করে দেশটির পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের দমনে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ১৯ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপালের সরকার কাউফিউ জারি ও সেনা মোতায়েন করে। কিন্তু কাউফিউ উপেক্ষা করেই তরুণরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করতে শুরু করে। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবনে ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
সকালের দিকে নেপালের পার্লামেন্টে আগুন দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলির পদত্যাগ চেয়ে এক দফা দাবি ঘোষণা করে তরুণ বিক্ষোভকারীরা। এমন ঘোষণার পরপরই ওলির উপর চাপ বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই জানা যায়, দেশটির সেনাবাহিনী থেকেও ওলিকে সরে যেতে আহ্বান জানানো হয়।