চাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের ফলাফলে পজিটিভ আসা কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে ডোপ টেস্টের ফলও দিতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাকসুর নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী। তিনি বলেন, চাকসুর তফসিলে মাদক পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এ পরীক্ষার ফলাফল জমা দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ডোপ টেস্টের ফলাফল শুধু প্রার্থী জানতে পারবেন, অন্য কাউকে জানানো হবে না। এটি গোপন থাকবে। মনোনয়নপত্র নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে এ পরীক্ষা করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে ৩৭৫ টাকা ফি দিতে হবে প্রার্থীকে। হল সংসদের মনোনয়নপত্র নেওয়ার জন্য ২০০ টাকা ও কেন্দ্রীয় সংসদের মনোনয়নপত্র নেওয়ার জন্য ৩০০ টাকা করে দিতে হবে প্রার্থীদের। অর্থাৎ প্রার্থী হতে একজন শিক্ষার্থীকে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা দিতে হবে। ডোপ টেস্ট দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল জানানো হবে।

জানতে চাইলে কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘ডোপ টেস্ট ও মনোনয়নপত্রের ফি পরিবর্তন হতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী যদি ওষুধ খাওয়ার জন্য ডোপ টেস্ট পজিটিভ হয় তাহলে আমরা তাঁর এ ফল বিবেচনা করব। এর বাইরে চাকসু–সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।’

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ১২ অক্টোবর এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনের মোট খসড়া ভোটার ২৫ হাজার ৭৫২ জন। আগামী সোমবার এ তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার তালিকার বিষয়ে আপত্তি জানানো যাবে। পরে ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তফসিল অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র নেওয়া যাবে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। এটি প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।

৩৫ বছর পর নির্বাচন

১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে চাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার নির্বাচন হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ছাত্রসংগঠনগুলোর মারমুখী অবস্থান, কয়েক দফা সংঘর্ষ ও উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের কার্যালয় থাকলেও এত দিন ক্যানটিন আর কমিউনিটি সেন্টার হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কর্মচারীদের সন্তানদের বিয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হয়েছে চাকসুতে। ক্ষোভে গত ১ জুলাই চাকসু ভবনের নামফলকের ওপর ‘জোবরা ভাতের হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টার’ লেখা ব্যানার টানিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল চাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠেন।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *