চবির স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবর্তনের ১৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর সনদে সাক্ষর নিজ হাতে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে, যা হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ একাডেমিক আয়োজন। এবারের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য সম্মতি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং চবি অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এবার সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে মূল সনদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “এই সমাবর্তী শিক্ষার্থীরা আমাদের একাডেমিক সন্তান। তারা ৫-৬ বছর পরিশ্রম করে আজকের এই জায়গায় এসেছে। তাই আমরা চাই তাদের সনদে আমাদের হাতের ছোঁয়া থাকুক। সিল ব্যবহার করে কাজটি সহজ করা যেতো, কিন্তু আমরা তা করিনি। বরং স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিজ হাতে সনদে স্বাক্ষর করছি।”

সমাবর্তনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৫ মার্চ, যা চলে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। এরপর ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মূল সনদ উত্তোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। নির্ধারিত নিবন্ধন ফি ছিল ডিগ্রিভেদে ভিন্ন:

মূল সনদধারীদের জন্য: ২৫০০ টাকা

পিএইচডি, এমফিল, এমডি, এমএস, এমফিল (চিকিৎসা বিজ্ঞান): ৫০০০ টাকা

অনার্স, মাস্টার্স, এমবিবিএস, বিডিএস, বিপিএড প্রভৃতি ডিগ্রি: ৩০০০ টাকা
যেসব শিক্ষার্থী একাধিক ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাদের প্রত্যেক ডিগ্রির জন্য আলাদা নিবন্ধন এবং ফি প্রদান করতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সমাবর্তন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যাহ পাটোয়ারী জানিয়েছেন, সমাবর্তনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘ডক্টর অব লেটারস’ (D.Litt) সম্মাননা প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে তিনি সমাবর্তন বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন।

ড. ইউনূসের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ১৯৭২ সালে অর্থনীতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এই পদে কর্মরত ছিলেন। তার এই আগমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সমাবর্তন শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি প্রমাণ করে একাডেমিক বন্ধনের গভীরতা, শিক্ষা জীবনের শ্রদ্ধার মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতা।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *