ইরানে হামলা হলে বসে থাকবে না রাশিয়া, চুক্তি চূড়ান্ত

আর কোন রাখঢাক নয় প্রকাশ্যে সারা দুনিয়াকে জানিয়েই ইরান এবং রাশিয়া এমন এক বন্ধনে আবদ্ধ হলো যার শক্তিতে যেকোন যুদ্ধে একসাথে লড়তে পারবে দেশ দুটো।

 আমেরিকার পক্ষ থেকে যখন ইরানে সরাসরি বোমা হামলার হুমকি,  ঠিক তখনই রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ তথা স্টেট দুমাতে অনুমোদন পেল মস্কো তেহরান 20 বছর মেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি ।

যার বেশিরভাগ জুড়েই আছে দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।  এই চুক্তির মূল ভিত্তি হল রাশিয়া এবং ইরান একে অন্যকে সাধারণ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় সহায়তা করতে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতে।

 প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে  যে,  যদি উভয়পক্ষ আগ্রাসনের শিকার হয় তবে অন্যপক্ষ সেই আগ্রাসনকে সহায়তা দেবে না । অর্থাৎ ইরান আক্রান্ত হলে রাশিয়া তার সর্বশক্তি নিয়ে পাশে থাকবে।

 গেল জানুয়ারিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বেজেসকিয়ানের রাশিয়া সফরের সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল।  এই চুক্তির আওতায় আগামী 20 বছর ধরে সামরিক মহড়া, যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ , যুদ্ধজাহাজ তৈরিসহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে দুই দেশ ।

সেই সাথে বৃদ্ধি পাবে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা । চুক্তি স্বাক্ষরের সময় পেজেশকিয়ান বলেছিলেন আমরা একটি বহু  কেন্দ্রিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠার পথে এগোতে চাই এবং এই পথের একটি উদ্দীপক পদক্ষেপ হলো এই চুক্তি।

 আর পুতিন বলেছিলেন চুক্তির ফলে শুধু নিরাপত্তা খাতই নয় বরং অর্থনীতি এবং বাণিজ্য খাতেও দুই দেশের সহযোগিতামূলক তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে।  এই কৌশলগত চুক্তির একটি শর্ত হলো দুই দেশী যাবতীয় অর্থনৈতিক আদানপ্রদান দুই দেশের নিজ নিজ মুদ্রায় করবে।

 দুই দেশের মধ্যে সত্যিকার গঠনমূলক কার্যক্রম বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন্।  তাহলেই অন্যদের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে পারবে।

 তারা পুতিনের এই বার্তাতেই স্পষ্ট হয়েছিল যে সময় পশ্চিমাদেরই ইঙ্গিত করেছিলেন তিনি।

  রাশিয়া ইরান সামরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং গোপনেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।

 সে কারণে এবারও চুক্তি অনুমোদনের পর সামরিক সহযোগিতার ব্যাপারে বক্তব্য দেন রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রসনকো।

 পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্প ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে এবং ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অভিযানের জেড়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 আর সেসব নিষেধাজ্ঞায় আরো কাছাকাছি এনেছে মস্কো তেহরানকে । 2024 সালে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে রুশ সেনাবাহিনী।

 গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়াকে স্বল্পপাল্লার  ক্ষেপণাস্ত্র ইরান সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ।

বিনিময়ে তেহরানকে S300 এবং S400 এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান দিয়েছে মস্কো।  তবে এবার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে রাশিয়া ।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *