ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা সেই গোল কেন বাতিল হয়নি?

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত গোলগুলোর একটি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁ হাত দিয়ে করা সেই গোলটি আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।প্রশ্ন ওঠে—স্পষ্ট হ্যান্ডবল হওয়া সত্ত্বেও কেন গোলটি বাতিল করা হয়নি?

এর সহজ উত্তর, ম্যাচের রেফারি আলী বিন নাসের এবং সহকারী রেফারি বোগদান দোচেভ—দুজনেরই নজর এড়িয়ে গিয়েছিল ঘটনাটি।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচটি ছিল রাজনৈতিক ও আবেগঘন উত্তেজনায় ভরপুর। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্টিভ হজের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল উঠে যায় পেনাল্টি এলাকায়। গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের জন্য লাফিয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা।উচ্চতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বাঁ হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ জানালেও রেফারি গোলের বাঁশি বাজান। পরে ম্যারাডোনা নিজেই এই গোলকে আখ্যা দেন ‘হ্যান্ড অব গড’—অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের হাত’।

বিতর্কিত সেই গোলের মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলটি করেন।নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষক শিলটনকে পরাস্ত করে জালে বল জড়ান। গোলটি পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ম্যাচের শেষ দিকে গ্যারি লিনেকার একটি গোল শোধ করলেও ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে বেলজিয়াম ও পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে দলটি।

বহু বছর পর রেফারি আলী বিন নাসের জানান, ঘটনাটি তার দৃষ্টিসীমার বাইরে ছিল।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাসের বলেছিলেন, ‘ইংলিশ ডিফেন্ডারের কাছে বল ছিল, তিনি সেটি পেছনে পাঠান এবং ম্যারাডোনা পিটার শিলটনের সঙ্গে শূন্যে লাফিয়ে ওঠেন। তখন তারা দুজনেই আমার উল্টো দিকে মুখ করে ছিল। তাদের মুখ ছিল আমার সহকারী রেফারি বুলগেরিয়ার বোগদান দোচেভের দিকে। প্রথমে আমি কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম। আমি দোচেভের দিকে তাকালাম। তিনি মাঠের মাঝখানের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং গোলটি নিশ্চিত করছিলেন। তিনি হ্যান্ডবলের কোনো সংকেত দেননি।’

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *