‘মার্কিন আগ্রাসন প্রতিহত করতেই সামরিক প্রস্তুতি মহড়া চালাচ্ছে কিউবা’

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার উদ্দেশ্যেই দেশটির সামরিক প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে।

চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কিউবা ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’ এবং হাভানাকে ‘সমঝোতা করতে’ বলেন। অন্যথায় ভেনেজুয়েলার মতো পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ৩ জানুয়ারি এক বোমা হামলা অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দেশটি থেকে ধরে নিয়ে যায়, ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হয়।

ভেনেজুয়েলা ছিল কিউবার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং তেল ও আর্থিক সহায়তার প্রধান উৎস, যা বন্ধ করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প।

দিয়াস-কানেল শনিবার কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর একটি ট্যাংক ইউনিটসহ বিভিন্ন সামরিক মহড়া তদারকি করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী কিউবান জেনারেল আলভারো লোপেস মিয়েরা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা।

কিউবান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে দিয়াস-কানেল বলেন, ‘আগ্রাসন ঠেকানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সাম্রাজ্যবাদকে আমাদের দেশের ওপর হামলার মূল্য কতটা বেশি হবে, তা হিসাব করতে বাধ্য করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জন্য আমাদের প্রস্তুতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত… বর্তমান পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।’

সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দিয়াস-কানেলের নেতৃত্বাধীন কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ সম্প্রতি বৈঠক করেছে, যার লক্ষ্য ছিল দেশের নেতৃত্বের মধ্যে প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের মাত্রা বাড়ানো ও উন্নত করা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পরিষদটি ‘যুদ্ধাবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ বিশ্লেষণ ও অনুমোদনের’ জন্য বৈঠক করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এই সামরিক মহড়াগুলো ‘সমগ্র জনগণের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত কৌশলগত ধারণার অংশ।কিউবান কর্তৃপক্ষ এই শব্দটি ব্যবহার করে সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে বেসামরিক জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ও সমাবেশকে বোঝাতে।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *