গাজার কিছু এলাকায় প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা লড়াই বন্ধ রাখার ঘোষণা ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধে ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। রোববার (২৭ জুলাই) এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা বলছে, এই বিরতির ফলে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে খাবার ও ওষুধ পাঠাতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো নিরাপদভাবে সড়কপথ ব্যবহার করতে পারবে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় মানবিক সহায়তা আরও দ্রুত এবং নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। তবে জাতিসংঘ কিংবা গাজায় কর্মরত কোনো ত্রাণ সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।

মানবিক সহায়তায় জড়িত কিছু ব্যক্তিরা এ ঘোষণাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তারা বলছেন, বাস্তবে এই ‘কৌশলগত বিরতি’ কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ঘোষণার বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

ইসরায়েলের ঘোষণা অনুযায়ী, কৌশলগত বিরতিটি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আওতায় থাকছে গাজার আল মাওয়াসি, দেইর আল বালাহ ও গাজা নগরী। সেনাবাহিনী দাবি করেছে, এই এলাকাগুলোতে বর্তমানে তারা কোনো সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।

এছাড়াও, ইসরায়েল বলেছে, তারা গাজা উপত্যকায় বিমান থেকে খাবার ফেলা শুরু করেছে এবং বেশ কিছু “নিরাপদ পথ” খুলে দিয়েছে, যাতে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো সড়কপথে খাবার ও ওষুধ নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে তারা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’-এর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু গত শনিবারেই ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিতে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান করছিলেন।

এদিকে, মানবিক পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে, তারা আবার গাজায় ত্রাণ সরবরাহ শুরু করবে। একইসাথে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা জর্ডানসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মিলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করবে।

গাজামুখী একটি ত্রাণবাহী জাহাজের ওপর ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের অধিকারকর্মীরা অবস্থান নিলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তা আটক করে। এই জাহাজটি ইসরায়েলের নৌ অবরোধ অমান্য করে গাজার দিকে যাচ্ছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫৯ হাজার ৭৩৩ জন নিহত হয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের ঘোষিত সাময়িক বিরতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো এখন অপেক্ষা করছে—ঘোষণা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সহায়তা সত্যিই পৌঁছায় কি না।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *