মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তির আওতায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মহাসচিব আশা প্রকাশ করেছেন যে সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য সব পক্ষ এখন তাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করবে। একই সাথে এই শান্তি আলোচনা সফল করতে পাকিস্তান, কাতার, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন গুতেরেস। তিনি জানিয়েছেন, একটি টেকসই ও ব্যাপক শান্তি অর্জনে জাতিসংঘ সব সময় পাশে থাকবে।
এ চুক্তির পর যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি (ই৪ দেশসমূহ) ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত। তবে তারা বলেছেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে এই লক্ষ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাবেন। অন্যদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, জাপান এই চুক্তির স্থিতিশীল বাস্তবায়ন দেখতে চায়।তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর দ্রুত চূড়ান্ত সমাধান আসবে।