বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেয়েছেন ‘নকল’ শাকিরা!

অবশেষে মাঠে গড়াল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পর্দা উঠেছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের।

তবে উদ্বোধনী ম্যাচের চেয়েও এখন বিশ্বজুড়ে বড় আলোচনা—উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করা পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরাকে নিয়ে! ভক্তদের একাংশের দাবি, মাঠ মাতানো সেই শাকিরা আসলে ‘আসল’ শাকিরা ছিলেনই না, বরং তার জায়গায় পারফর্ম করেছে কোনো ‘বডি ডাবল’ বা ক্লোন!

এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ (এগিয়ে চলো)। নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়ের সঙ্গে এই গানেই গলা মিলিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী কলম্বিয়ান সেনসেশন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ঝড় বইছে শাকিরার চেহারা নিয়ে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরাকে দেখা যায় সম্পূর্ণ নতুন লুকে।পরনে ছিল হলুদ পোশাক, সাদা শর্টস আর প্ল্যাটফর্ম স্নিকার্স। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তার চুলে। চিরচেনা সোনালি (ব্লন্ড) চুল বদলে তিনি হাজির হন হালকা স্ট্রবেরি রেড কালারে। চোখে ছিল বিশাল বড় কালো সানগ্লাস, যা তার পুরো মুখাবয়বকে অনেকটাই আড়াল করে রেখেছিল।আর এই লুকই জন্ম দিয়েছে যত রহস্যের।

শাকিরার এই রূপবদল কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তার কোটি ভক্ত। সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এক ক্ষুব্ধ ভক্ত লিখেছেন, ‘উনি কি সত্যিই শাকিরা? আমার তো কোনোভাবেই শাকিরা মনে হচ্ছে না। আমি কি ভুল দেখছি?’

স্প্যানিশ ভাষায় আরেকজন সরাসরি লিখেছেন, ‘আমাকে বলবেন না যে আমি একাই ভাবছি এটা শাকিরার বডি ডাবল!’ রসিকতা করে অন্য একজন লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওরা শাকিরার মতো দেখতে কাকে নিয়ে এলো?’ 

ভক্তদের দাবি, শাকিরার চোখের চাউনি ও শারীরিক ভাষার সঙ্গে এই পারফরমারের কোনো মিল ছিল না।এটি নিশ্চিতভাবেই তার কোনো রূপধারী বা ইমপার্সনেটর।

বিতর্ক একপাশে সরিয়ে রাখলে, এই গানটি শাকিরার জীবনের জন্য এক বড় বার্তা। সাবেক ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে তুমুল আলোচিত ও তিক্ত বিচ্ছেদের পর এটাই তার প্রথম বড় বৈশ্বিক পারফরম্যান্স। ‘দাই দাই’ গানের লিরিক্সেও রয়েছে সেই ক্ষত কাটিয়ে ওঠার গল্প। গানটির একটি লাইন হলো—‘যা তোমাকে একবার ভেঙেছে, তা-ই তোমাকে শক্তিশালী করেছে।’

এই গান প্রসঙ্গে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবেগঘন কণ্ঠে শাকিরা বলেছিলেন, ‘জীবন আমাকে যতটা শক্তিশালী প্রমাণ করেছে, আমি সবসময় নিজেকে তার চেয়েও ভঙ্গুর বা দুর্বল ভেবেছিলাম। জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতার পেছনেই একটা শিক্ষা থাকে। আমাদের সেই শিক্ষার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, এমনকি যারা আপনাকে ক্ষতবিক্ষত করে চলে গেছে তাদের প্রতিও। কারণ তারা আমাদের আরো উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।’

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *