ভারতের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ বিপুল জয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ২৪৩ সদস্যের বিধানসভায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেয়েছে ২০২টি আসন। ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেস-আরজেডি মহাজোটের, তারা পেয়েছে ৩৫টি আসন।
জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বিহারের এই জয় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পথ তৈরি করবে।
ভোটগণনা ঘিরে জল্পনা–কল্পনার মধ্যেই পাল্টে গেছে সমীকরণ। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় দুই শতাধিক আসন পেয়ে এনডিএ নিশ্চিত করেছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। যদিও সমীক্ষার পূর্বাভাসে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত। কিন্তু বাস্তব চিত্র পুরো ভিন্ন।
নীতীশ-বিজেপি জোটের ভূমিধস জয়ে ফের ভুল প্রমাণিত হয়েছে সব সংখ্যাতত্ত্ব। টানা দুই দশক ক্ষমতায় থাকার পরও নীতীশ কুমারের ওপরই আস্থা রেখেছে ভোটাররা।
চলতি মাসেই রাজ্যটিতে দুই দফায় ভোট হয়। ৬ নভেম্বর প্রথম দফায় ১২১ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আর দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় ১১ নভেম্বর। প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়ে। বিহার বিধানসভার মোট আসন ২৪৩টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১২২ আসন।
বিহারে এনডিএ জোটের জয়ের পর পশ্চিবঙ্গের আসন্ন বিধানসভার ভোটেও জয়ের আশা করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে বিহার। আমি বাংলার ভাই-বোনকেও আশ্বস্ত করছি, এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকেও জঙ্গলরাজ উৎখাত করব।
অন্যদিকে বিহারের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী। এক পোস্টে ফলাফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এমন একটি নির্বাচনে জয় লাভ করা যায়নি যা শুরু থেকেই সুষ্ঠু ছিলো না।
আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু, পদুচেরি ও আসামে বিধানসভা নির্বাচন। বিশ্লেষকদের মতে, বিহারের এই ফলের পর নতুন করে আশা দেখছে বিজেপি।