মামদানির সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বললেন, মেয়র হলে এক মেয়াদের বেশি টিকবেন না তিনি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ডেমোক্র্যাট মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মামদানির বিভিন্ন নীতিগত অবস্থান এবং ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতানিয়াহু বলেছেন, “তিনি যদি নির্বাচিতও হন, এক মেয়াদের বেশি টিকবেন না।”

সোমবার ‘দ্য ফুল সেন্ড পডকাস্টে’ দেওয়া এক আলোচনায় নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করেন। সেখানে গাজায় চলমান যুদ্ধ, ইরান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের খাবারপ্রেমসহ নানান বিষয় উঠে আসে। একপর্যায়ে আলোচনায় আসে নিউইয়র্কের রাজনীতি এবং ইহুদিবিদ্বেষ।

নেতানিয়াহুর দৃষ্টি মামদানির দিকে যায় তখন, যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়—মামদানি কেন ‘ইন্তিফাদার বিশ্বায়ন’ শব্দবন্ধের সমালোচনা করেননি। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলন ‘ইন্তিফাদা’ নামে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ইসরায়েল সমর্থকদের কাছে আপত্তিকর বলে বিবেচিত।

নেতানিয়াহু এই প্রসঙ্গে বলেন, “নিউইয়র্কে বসে আপনি যদি পুলিশের বাজেট কমাতে চান, যদি ডাকাতদের রাস্তায় ছেড়ে দিতে চান, যদি ধনীদের ওপর কর চাপিয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে চান—তাহলে আপনি সমাজের উপকার করছেন না, বরং ধ্বংসের পথ তৈরি করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক মানুষ এই সব কল্পনাপ্রসূত প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এসব নীতির পরিণাম হবে ভয়াবহ। আমার ধারণা, মামদানি যদি মেয়র হন, তিনি এক মেয়াদ শেষ করার আগেই জনসমর্থন হারাবেন।”

তবে মামদানির ঘনিষ্ঠরা জানাচ্ছেন, তিনি কখনো পুলিশের পুরো অর্থায়ন বন্ধের কথা বলেননি। বরং তিনি চান, পুলিশের বাজেটের মধ্যে একটি ভারসাম্য আনা হোক, যাতে গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। পাশাপাশি তিনি পুলিশ সদস্যদের ছাঁটাই নয়, বরং ব্যবস্থাপনার রূপান্তর চান।

নেতানিয়াহু সাক্ষাৎকারে মামদানির ধনী নাগরিকদের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আপনি যদি উদ্যোক্তাদের শাস্তি দিতে থাকেন, তাহলে কর্মসংস্থান কীভাবে হবে? অর্থনীতি কীভাবে এগোবে? এসব প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের জন্য বিপজ্জনক।”

উল্লেখ্য, জোহরান মামদানি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক। তিনি নিউইয়র্কের অ্যাসেম্বলি সদস্য হিসেবে ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান প্রগ্রেসিভ বা অগ্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বরাবরই ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে এসেছেন।

একাধিক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেছেন, “আমি ইসরায়েলের বর্বর নীতির সমালোচক, কিন্তু কোনো ধর্ম বা জাতির বিরুদ্ধে নই। নেতানিয়াহু যদি কখনো নিউইয়র্কে আসেন, আমি চাইব, তিনি যেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বিচারের মুখোমুখি হন।”

নিউইয়র্ক শহরে আনুমানিক ১২ লাখ ইহুদি বাস করে, যা ইসরায়েলের বাইরের যেকোনো শহরের তুলনায় সর্বোচ্চ। এমন প্রেক্ষাপটে মামদানির অবস্থান এবং নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য মন্তব্য আগামী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নভেম্বরের মেয়র নির্বাচনে মামদানির জয় অথবা পরাজয় শুধু নিউইয়র্ক নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও এক অনন্য বার্তা বয়ে আনবে।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *