যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৫০ দিনের মধ্যে যদি যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হন, তাহলে রাশিয়ার ওপর ‘বিশাল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা’ জারি করা হবে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মস্কোতে হামলা চালানো উচিত নয়। তার ভাষায়, “না, মস্কোতে হামলা করাটা তাঁর (জেলেনস্কি) উচিত হবে না।”
তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন ফিন্যান্সিয়াল টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নাকি ইউক্রেনকে ব্যক্তিগতভাবে রাশিয়ার ভেতরে আরও গভীরে হামলা চালাতে উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি জেলেনস্কির কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দূরপাল্লার অস্ত্র দেয়, তাহলে তিনি মস্কোতে হামলা চালাতে পারবেন কি না।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই সাংবাদিকরা এ বিষয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি পাল্টা জবাব দেন। একদিকে তিনি বলেন, মস্কোতে হামলা সমর্থনযোগ্য নয়, অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন।
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর ইউরোপীয় দেশগুলোও তৎপর হয়ে উঠেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা এখন হিসাব-নিকাশ করছেন, কীভাবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় এবং ইউক্রেনের জন্য আরও অস্ত্র সরবরাহ করা যায়।
ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের উদ্দেশে কিছু প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যেই রওনা দিয়েছে, যা জার্মানি থেকে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি জানান, এই ঘোষণা দেওয়ার পরেও এখনো রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে তিনি আশা করছেন, ৫০ দিনের মধ্যেই কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ট্রাম্প বলেন, যারা এখনো রাশিয়া থেকে তেল কিনছে, তাদের ওপরও শুল্ক এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা আছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেননি তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি কারও পক্ষেই নই। আমি মানবতার পক্ষে। আমি হত্যাকাণ্ড থামাতে চাই।” এভাবেই তিনি যুদ্ধ বন্ধে নিজের ভূমিকাকে ‘মানবিক’ বলে দাবি করেন।
তবে আলোচনার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেন, “যদি ৫০ দিনের মধ্যে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে সেটা খুবই খারাপ হবে।”
ট্রাম্পের এমন অবস্থান রাশিয়ার ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে দুই পক্ষ?