রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ৫০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে গতকাল সোমবার ন্যাটো প্রধান মার্ক রুত্তের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধ না থামলে মস্কোর ওপর প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির জবাবে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, ট্রাম্পের ‘আলটিমেটাম’ একটি “নাটুকে” সিদ্ধান্ত। এদিকে পুতিন এই হুমকিকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তারা জানায়, ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে পুতিন নিশ্চিত, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ আধিপত্য বাড়ছে এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কাঠামো শিগগিরই ভেঙে পড়বে।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তিনি পুতিনের ওপর “অত্যন্ত ক্ষুব্ধ” এবং এতদিন যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষিত হওয়ায় এবার তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে। তিনি জানান, দ্বিতীয় ধাপে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আনা হবে, যা রাশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার—চীন, ভারত, তুরস্ক ও বেলারুশ—এই দেশগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।
বৈঠকে ট্রাম্প ও রুত্তে এক অস্ত্রচুক্তির কথাও প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র কিনে তা ইউক্রেনকে সরবরাহ করবে ন্যাটোর দেশগুলো। জার্মানি, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “পুতিনের প্রতি আমি হতাশ। তবে তাঁর সঙ্গে এখনো আমার কাজ বাকি আছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।” পুতিনকে হত্যাকারী মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমি তাঁকে ঘাতক বলছি না, তবে তিনি একজন কঠিন মানুষ।”
এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া পুতিন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বাসায় ফিরে মেলানিয়াকে বললাম, ‘ভ্লাদিমিরের সঙ্গে চমৎকার আলাপ হয়েছে।’ তখন ও বলল, ‘তাই? (ইউক্রেনের) আরেকটি শহরে হামলা চালানো হয়েছে।’”
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, “এটি ছিল একটি খুব ভালো আলোচনা। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।”
এদিকে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান শক্ত করতে আজ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে জানিয়েছেন, মস্কোকে আরও বড় পরিসরে সহায়তা দেবে বেইজিং। এই বৈঠকটি বেইজিংয়ে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের মন্ত্রীসভা সম্মেলনের সময় অনুষ্ঠিত হয়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যেই আজ রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ভোসক্রেসেনকা ও পেত্রিভকা গ্রাম দুটি দখলে নিয়েছে।