২০২৫ সালের সিমাগো বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হয়েছে। স্পেনের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিউশন (SCImago Institutions Rankings) প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা, সামাজিক প্রভাব এবং উদ্ভাবন সূচকের ভিত্তিতে এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ৫ হাজার ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) দেশে ৭ম অবস্থানে রয়েছে। এই প্রতিবেদনে সিমাগো র্যাঙ্কিংয়ের পদ্ধতি, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাস বিশ্লেষণ করা হবে।
সিমাগো র্যাঙ্কিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা, সামাজিক প্রভাব এবং উদ্ভাবন সূচকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। এই তিনটি সূচকের ওজন নিম্নরূপ:
- গবেষণা (Research): ৫০%
- উদ্ভাবন (Innovation): ৩০%
- সামাজিক প্রভাব (Societal Impact): ২০%
এই সূচকগুলোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা এবং সামাজিক অবদান মূল্যায়ন করা হয়। গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রকাশনা, উদ্ধৃতি এবং গবেষণা সহযোগিতার মান যাচাই করা হয়। উদ্ভাবন সূচকে পেটেন্ট, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পের সাথে গবেষণার সম্পর্ক বিবেচনা করা হয়। সামাজিক প্রভাব সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশগত অবদান এবং জনস্বাস্থ্যে ভূমিকা মূল্যায়ন করা হয়।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান
২০২৫ সালের সিমাগো র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয় হলো:
- বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
এই তালিকায় বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করেছে। এটি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং ইতিহাস
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও প্রভাবশালী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সিমাগো র্যাঙ্কিংয়ে চবির অবস্থান গত পাঁচ বছরে ওঠানামা করেছে:
- ২০২০: ৯ম
- ২০২১: ৫ম
- ২০২২: ১০ম
- ২০২৩: ৮ম
- ২০২৪: ৭ম
- ২০২৫: ৭ম
২০২১ সালে চবি ৫ম অবস্থানে উঠলেও পরের বছর ১০ম অবস্থানে নেমে যায়। তবে গত দুই বছর ধরে এটি ৭ম অবস্থানে স্থিতিশীল রয়েছে। চবির এই ওঠানামা গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক প্রভাব সূচকে তার পারফরম্যান্সের পরিবর্তনের কারণে হয়েছে।
গবেষণায় শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়
- বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি)
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক
- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
সামাজিক প্রভাবে শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
উদ্ভাবনে শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়
- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
- বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ
- ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম
- ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়
- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশ গ্রিন ইউনিভার্সিটি
সিমাগো র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রয়েছে। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সামাজিক প্রভাব সূচকে এগিয়ে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের অভাব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সীমিত সুযোগ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
২০২৫ সালের সিমাগো র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নতি ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই নির্দেশ করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ৭ম অবস্থানে থাকলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
মোঃ রাফিকুল ইসলাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি