চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের নিচে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল একটি পথশিশু। আজ সকাল ১১:৩০ মিনিটে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেনের নিচে পড়ে যায় শিশুটি। ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ভাগ্যক্রমে শিশুটির শরীরে তেমন গুরুতর কোনো আঘাত লাগেনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেন চালু করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ছিল বাস, যা বর্তমানে তরী নামে পরিচিত। তবে সেই তরীর সংখ্যা ছিল অপ্রতুল। ফলে দূর দুরান্ত থেকে দৈনন্দিন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। শাটল ট্রেন চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
শাটল ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। বিশ্বে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েই দুটি শাটল ট্রেন রয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ ও ঐতিহ্য। স্থানীয় গ্রামের লোকদের উৎপাতের কারণে শিক্ষার্থীরা একে ‘জোবরা এক্সপ্রেস’ নামে ডাকে।
শাটল ট্রেন শুধুমাত্র একটি যানবাহন নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শাটল ট্রেনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র যাতায়াতই করে না, এটি তাদের স্মৃতিরও একটি অংশ। অনেক শিক্ষার্থী তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি শাটল ট্রেনের সাথে জড়িত।
শাটল ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন (বটতলী) থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে। যাত্রাপথে চট্টগ্রাম জংশন কেবিন, ঝাউতলা, ষোলশহর জংশন, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট, চৌধুরীহাট ও ফতেয়াবাদ জংশন রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও ইতিহাস,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। পাহাড়, লেক ও সবুজ বনানী দিয়ে ঘেরা এই ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন। এটি শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যমই নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যেরও একটি অংশ। আজকের এই ঘটনা শাটল ট্রেনের গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। আমরা আশা করব, শাটল ট্রেনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাবে এবং এটি তাদের স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।
মোঃ রাফিকুল ইসলাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি