হামে মারা গেছে এক শিশু, আরো ২৯ মৃত্যুতে হাম সন্দেহ

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাম সংক্রমণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে যার কারণ হিসেবে হাম সংক্রমণকে সন্দেহ করা হচ্ছে। 

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান শাহিদা ইয়াসমিন। তিনি আরো জানান, গত জানুয়ারি থেকে হাম আক্রান্ত ২৭০  শিশুকে ভর্তি করা  হয়।এর মধ্যে পরীক্ষা শেষে ৩৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া যায়। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ছয়-নয় মাস পর্যন্ত বয়সী। এর মধ্যে ৬০ ভাগ আক্রান্ত হচ্ছে ছয় মাসের মধ্যে। 

এদিকে রামেক হাসপাতালে আশঙ্কাজনক হারে শিশু মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম।পরে  তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হামের প্রাদুভার্ব চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বিগত নির্দলীয় সরকারের আমলে ভ্যাকসিন কেনার যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেই সমস্যার কারণেই হয়তো এই হামের প্রাদুর্ভাব। আবার যারা এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা গত এক-দেড় বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের আন্দোলনের কারণে কিংবা ভ্যাকসিন সংকটের কারণে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। 

রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘সরকারের অবশ্যই নজর দেওয়া উচিত, ভ্যাকসিনেশন এনে এই কর্মসূচি কিভাবে সফল করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া। এখন দেখা যাচ্ছে, চার মাসের শিশুরাও হাম আক্রান্ত হচ্ছে। ৯ মাসের আগেই কেন এর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’  

হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই—উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ এ রোগ একজনের থেকে ১০-১৫ জনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।সেটি যেন না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। চিকিৎসকদের এ ব্যাপারে কাউন্সেলিং করার ব্যবস্থা করতে হবে।’ 

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার রাজশাহী হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক চিকিৎসক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি হাসপাতালের পরিচালক, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।  

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজশাহী হাসপাতাল ১২০০ শয্যার হলেও ৫৫০ শয্যার জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হয়। এখানে গড়ে প্রতিদিন হাসপাতালের ভেতর আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর বহির্বিভাগে গড়ে সাত হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ 

পরিচালক আরো বলেন, ‘আমরা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্যাথলজি ও রেডিওলজি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু রেখেছি সীমিত জনবল দিয়েই। আমাদের এখানে রোগীর চাপ ক্রমে বাড়ছে। রাজশাহীর বাইরে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলা থেকে রোগী আসে। তাদের অনেকের আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটি কম থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী তা দিতে পারছি না। তার পরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *