চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়েছে। তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানেও। তবে পুলিশ একটি অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি। অবশেষে অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করেছে সংস্থাটি। পুলিশ বলছে, আসামি ধরা পড়ে যাওয়ার পর তার সাথীরা অস্ত্র হাতবদল করে। তখন জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যে অভিযান চালিয়েও অস্ত্রের সন্ধান মেলে না।
অন্যদিকে নগরের বাকলিয়ায় ঘটা জোড়া খুনের মামলার তদন্তে ‘যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে’ দাবি করে পুলিশ বলছে, ঘটনায় জড়িত অন্যতম ৬ আসামি এবং ব্যবহৃত অস্ত্র-গাড়ি উদ্ধার হওয়ায় খুব দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে এর আগে পলাতক চার আসামিকে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে তাদের।
রবিবার (৪ মে) বেলা ৩টায় নগরের দামপাড়ায় পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে বাকলিয়ার জোড়া খুন মামলার অগ্রগতি ও আসামি গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ছোট সাজ্জাদকে ধরার প্রেক্ষিতেই বাকলিয়ার জোড়া খুন হয়েছে। ওই মামলার যে প্রধান আসামি তাকে (হাসান) আমরা গতকাল বিদেশি পিস্তলসহ ধরেছি। এটা ৭.৬৫ এমএম ইউএসএ’র তৈরি। আমরা ধারণা করছি এই অস্ত্রটাই খুনে ব্যবহৃত হয়েছে। আমরা আরও কনফার্ম হতে পারবো রিপোর্টের পরে। রিপোর্টটি পেলেই আমরা কনফার্ম হবো উদ্ধারকৃত গুলির খোসাগুলো ওই পিস্তল থেকে বের হয়েছে কি না।’
জোড়া খুনের মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত এর আগেও অনেক আসামিকে আমরা ধরেছি। এ পর্যন্ত মোট ৬ জন আসামি আমরা গ্রেপ্তার করেছি। এদের মধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং এই মামলায় কে কে কিভাবে জড়িত—সেই পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আদালতকে জানিয়েছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে আমরা মনে করছি, এই মামলার একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং প্রায়ই ম্যাক্সিমাম আসামিসহ ব্যবহৃত গাড়ি, মোটরসাইকেল—এগুলো আমাদের হেফাজতে আছে। আরও চারজন আসামি পলাতক আছে। এরা মধ্যম সারির। এদেরকেও শিগগিরই গ্রেপ্তার করে ফেলবো। আমরা আশা করছি এভাবে আমরা যদি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান করতে পারি, সিএমপি তথা চট্টগ্রাম মহানগরী নিরাপদ থাকবে।’
বাকি আসামিদের ধরে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেইন আসামিগুলো এরইমধ্যে আমরা ধরে ফেলেছি। অস্ত্র উদ্ধারও হয়ে গেছে। ব্যবহৃত গাড়িও উদ্ধার হয়েছে এবং জবানবন্দিও হয়ে গেছে। ফলে এই মামলায় যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, আমরা চাইলেই চার্জশিট (অভিযোগপত্র) পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি। তবে আমরা বাকি চার আসামিকে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করবো।’
সাজ্জাদকে রিমান্ডে নেওয়ার পর অস্ত্র উদ্ধার গেল না কেন—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা এটা জানেন যে, যখন আসামি ধরা পড়ে যায় তখন তার সাথে যে লিংকগুলো থাকে, তারা কিন্তু তার জানামতে অস্ত্রগুলো সেই জায়গায় রাখে না। কারণ তারা জানে যে, রিমান্ডে হয়তো অস্ত্রগুলো কোথায় আছে সেটি বলে দিতে পারে। সেজন্য সাজ্জাদ ওইসময় অস্ত্রগুলোর কথা আমাদের কাছে বললেও পরবর্তীতে অস্ত্রগুলো ওই জায়গা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নায়। ধরা পড়লেই সবাই কিন্তু জেনে যায় ও ধরা পড়ছে। তখন ওরা এগুলো ভিন্ন জায়গায় রাখে। সেজন্য যখনই সে ধরা পড়েছে অস্ত্রগুলো ব্যহত হয়েছে। বিভিন্ন হাতবদল হয়েছে। একটা সময় চলে গেলে বা রিমান্ডে আসলে তো একটা সময় চলে যায়। আসামি শ্যোন অ্যারেস্ট হয়, পরে রিমান্ডে আসে। এরমধ্যে অস্ত্রগুলো হাতবদল হয়ে যায়। তখন অস্ত্র উদ্ধার করাটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়, কঠিন হয়ে যায়।’
জোড়া খুনের মামলায় গত শনিবার গ্রেপ্তার প্রধান আসামি হাসানের হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে সিসিটিভি ফুটেজ আমরা জব্দ করেছি। সেখানেই হাসানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, উপস্থিতি প্রমাণিত। সেখানে সন্দেহের কিছু নাই। আমরা এটাও বলেছি যে অস্ত্রটা হাসানের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সেটিও খুনের সময় ব্যবহার করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ধরে ধরেই এই আসামিদের গ্রেপ্তার করছি।’