সাতকানিয়ার দক্ষিণ রামপুর বনিক পাড়ার যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূ মনি ধর (২০) কে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুর ৩ দিন পর স্বামীসহ ১১জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি আনোয়ারা উপজেলার বিলপুর গ্রামের মৃত নেপাল ধরের ছেলে নিহতের চাচা ঋশু ধর বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে এ ঘটনায় কোনো মামলা আছে কিনা সে ব্যাপারে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন সাতকানিয়া থানার ওসিকে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে,গত ২৩ জুন ২০২৩ ইং সাতকানিয়া পৌরসভার দক্ষিণ রামপুর ১ নং ওয়ার্ড বনিক পাড়া মিলা ধর এর সাথে আনোয়ারা উপজেলার বিলপুর গ্রামের বনিক পাড়ার মনি ধর (২০) এর ধর্মীয়রীতিতে সামাজিকভাবে বিবাহ হয় । বর্তমান তাদের ঘরে মিশাকা ধর নামে ৮ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিগত প্রায় ৫-৬ মাস যাবৎ স্বর্ণের ব্যবসার জন্য মনি ধর থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে আসিতেছিল। সেই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে বিভিন্ন সময়ে শশুর বাড়ীর লোকজন মনি ধরকে শারীরিক ও মানসিকতাবে নির্যাতন করে আসিতেছিল। সর্বশেষ গত চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মনি ধরের স্বামী মিলা ধরকে এক লক্ষ টাকা যোগাড় করে দেওয়ার জন্য ১ মাস সময় চেয়েছিলেন। শুক্রবার মনি তার মাকে সকাল আনুমানিক ১০টার মুঠোফোনে জানায় যে, ” স্বামীর আত্মীয়রা আজকে আমার শশুর বাড়ী আসবে এবং আমার বিচার করবে” । এটা বলে ফোন কেটে দেয়। এর পর থেকে মনির ফোনে বারবার যোগাযোগ করেও আর ফোনে পাওয়া নি। মনি ধরের স্বামীর ফোন পেয়ে মনির মা তার শশুর বাড়ী গিয়ে দেখে তার মরদেহ মাটিতে পড়ে আছে। গলায় ফাঁস লাগানো দাগ দেখা যায়।
ওইদিন রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। লাশের গলায় গুরুতর জখম এর দাগ পাওয়া যায়। পরে খোঁজখবর ও পাশ্ববর্তী নারীদের সাথে কথা বলে মনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ পান তার চাচারা। এরপর তিনি আদালতে এ মামলা করেন।
মামলার বাদী মৃত মনি ধরের চাচা ঋশু ধর বলেন , আমার ভাতিজিকে বিভিন্ন সময় শশুর বাড়ীতে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। তারা সবাই মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এর পর লাশ গোপন করতে তড়িঘড়ি করে দাহ করতে চেয়েছি তারা।থানায় মামলা করতে গেলে সেখানে আমাদের মামলা নেয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতকানিয়া থানার এসআই মোঃ রায়হান হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী মিলা ধরকে আটক করে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এটি বুঝা যাবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এর পর মামলার বিষয়।