চট্টগ্রাম নগরের সিআরবি শিরীষতলায় আয়োজিত বসন্তবরণ উৎসবের দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান মাঝপথে বাতিল করেছে আবৃত্তি সংগঠন প্রমা। আকষ্মিকভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করায় আয়োজন তাৎক্ষণিক বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ভূ-সম্পত্তি বিভাগ জানিয়েছে, ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে অনুষ্ঠানের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
যদিও সংগঠনটি বলছে, ‘অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠান করা হয়েছে। কোনো সমস্যা হয়নি, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রথম পর্বের পর অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে।’
জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও আবৃত্তি সংগঠন প্রমা’র আয়োজনে নগরের সিআরবির শিরীষতলায় সকাল থেকে বসন্তবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথম পর্ব চলে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। এরপর দেওয়া হয় খাবারের বিরতি। পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টা থেকে ফের সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু দুপুর ২টার দিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসে জানায়, ‘অনিবার্যকারণ বশত’ বাতিল করা হয়েছে। পরে সংগঠনের সদস্যরা দেখতে পান স্পন্সর প্রতিষ্ঠান নিপ্পন পেইন্ট এবং মঞ্চ গুটিয়ে ফেলা হচ্ছে। পরে আয়োজকসহ অন্যান্যরা দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিশেষ চাপে কাজ করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ, এ ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ শুধুমাত্র শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশকেই বাধাগ্রস্ত করে না, বরং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপরও হুমকি সৃষ্টি করে।
উৎসবে অংশ নেওয়া একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘বসন্ত উৎসবের মতো আয়োজনগুলো আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঝপথে এই আয়োজন বন্ধ করা খুবই দুঃখজনক। অনুমতি ছাড়া নিশ্চয়ই এতোবড় অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব না। অথচ উৎসবের মাঝপথে এসে অনুমতি বাতিলের ঘোষণা দেয়া হলো। এটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বড় বাধা।’
আরেকজন দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই কোনো সমস্যা দেখত, তাহলে শুরুতেই নিষেধাজ্ঞা দিত। মাঝপথে বন্ধ করার মানে হলো সংস্কৃতিকে দমন করা।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের এক সদস্য সিভয়েস২৪’কে বলেন, ‘প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে আমরা খাবার খেতে যাই। ফিরে এসে শুনি অনুষ্ঠান হবে না। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে আমাদের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু কেন কী কারণে উৎসবের মাঝপথে বাতিল হলো! কারা বাধা হয়ে দাঁড়ালো কিছুই জানি না।’
একই বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসানকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সিভয়েস২৪’কে তিনি বলেন, আমরা একবেলাই করেছি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এক সেশন করে আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রমার এ সংগঠক বলেন, ‘রেল থেকে আমরা অনুমতি নিয়েছি। অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠান করেছি। তবে এ মুহূর্তে অনুমতপত্রটি আমার হাতে নেই।’
প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব) মাহবুবুল করিম সিভয়েস২৪কে বলেন, প্রমার অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমার জানা নেই। ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে এ ধরনের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।’
অনুষ্ঠান বন্ধের প্রসঙ্গে জানতে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা কোনো ফোর্স আয়োজকদের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়নি। সেখানে প্রতিদিনের মতো মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছিল। যতটুকু জেনেছি, অনুমতি না থাকায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে নির্দেশনা দিয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।