প্রশান্ত মহাসাগরে ৩ নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ৮

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে তিনটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে, এতে আটজন নিহত হয়েছে।

ইউএস সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, নৌযানগুলো ‘পরিচিত নার্কো-ট্রাফিকিং রুটে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচারে জড়িত ছিল’।

গত কয়েক মাসে প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২০টির বেশি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছে। এসব অভিযান চলছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্রতর অভিযানের অংশ হিসেবে; তিনি এ অঞ্চলে মাদক পরিবহনের জন্য দায়ী বলে যেসব গ্যাংকে অভিযুক্ত করেন, তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলছে।

তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এসব হামলা সশস্ত্র সংঘাত নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। বিশেষ করে ২ সেপ্টেম্বরের প্রথম হামলাটি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে—কারণ সেখানে দুটি পৃথক হামলা চালানো হয় এবং প্রথম হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা দ্বিতীয় হামলায় নিহত হন।

একধিক আইন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ভেনেজুয়েলীয় মাদকবাহী নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় হামলাটি সম্ভবত অবৈধ ছিল এবং আন্তর্জাতিক আইনে সেটিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এক সাবেক প্রধান কর্মকর্তা বলেন, সামগ্রিকভাবে এই মার্কিন সামরিক অভিযান ‘শান্তিকালে বেসামরিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত হামলার’ শ্রেণিভুক্ত।

এর জবাবে হোয়াইট হাউস বলেছে, ‘আমাদের উপকূলে বিষ এনে আমেরিকান জীবন ধ্বংস করতে চাওয়া কার্টেলগুলোর’ হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই তারা কাজ করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবাহে সহায়তার অভিযোগ করেছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো একঘরে করার চেষ্টা জোরদার করেছে।

ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি আঘাত হানার সক্ষমতায় হাজার হাজার সেনা ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করা হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে।যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যা ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সহায়তাকারী অবৈধ তেল পরিবহন নেটওয়ার্ক’-এর অংশ।

ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল এই জব্দকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *