গাজায় ইসরাইলের নেতৃত্বাধীন দখলদার ও দমনমূলক শক্তির বর্বর হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে এবার প্রতিবাদের মিছিল গড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও। বিশ্বজুড়ে যখন ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মানুষের বিবেক জেগে উঠছে, তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও চুপ থাকেনি।
চবি প্রশাসন গাজায় চলমান নির্মম হত্যাযজ্ঞ, নারী-শিশুসহ নিরীহ মানুষদের উপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেইসাথে গাজাবাসীর প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতি জানিয়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
আগামী ১০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চবি পরিবারের সকল সদস্যকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চবি তথ্য ও ফটোপ্রাফি শাখার প্রশাসক ড. মোঃ শহীদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইসরাইল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরাইলি বর্বরতম ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বন্ধ থাকলেও মানবতার ডাকে সাড়া দিতে এবং গণবিস্ফোরণের অংশ হতে প্রশাসন খোলার পরপরই এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গাজা এখন এক মৃত্যুপুরী। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় ফিলিস্তিনের এই উপত্যকায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৫,০০০-এরও বেশি মানুষ, যার এক তৃতীয়াংশই শিশু। ধ্বংস হয়েছে হাজারো ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ, গির্জা – সব কিছু।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ২.৩ মিলিয়ন জনগণের মধ্যে প্রায় ৮০% মানুষ এখন গৃহহীন। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ, ওষুধ – এমনকি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতেও নেই ন্যূনতম মানবিক সহায়তা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই মুহূর্তে গাজা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গাগুলোর একটি। সেখানে শিশুরা এখন আর স্বপ্ন দেখে না, বরং প্রতিদিন মৃত্যু এড়ানোর যুদ্ধ লড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়, মানবাধিকার সংস্থা, সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিবাদ আন্দোলন এখন এক বৈশ্বিক চেহারা নিয়েছে। নিউইয়র্ক, লন্ডন, জার্মানি, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ শতাধিক দেশে চলছে বিক্ষোভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার, বিশ্ব বিবেক এখন ফিলিস্তিনের পাশে।
বাংলাদেশ বরাবরই ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলে আসছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন মহল থেকে এরই মধ্যে ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতিবাদ সমাবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ।
এই সমাবেশ শুধু চবি পরিবারের নয়, বরং গোটা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহলের একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের রূপ। এটি প্রমাণ করে—আমরা এখনো মানবতা, ন্যায় এবং শান্তির পক্ষে।
চবি প্রশাসনের এই সমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনি হয়ে উঠতে পারেন ফিলিস্তিনের মুক্তির যাত্রায় এক স্নেহবান কণ্ঠস্বর। আসুন, ১০ এপ্রিল সকলে মিলে বলি—“গণহত্যার বিরুদ্ধে আমরা, ফিলিস্তিনের পক্ষে আমরা।”
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্মম সামরিক অভিযান, অবরোধ ও গণহত্যার মুখে গাজার লক্ষাধিক বেসামরিক নাগরিক প্রাণ বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং সমগ্র মানবতার জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।
ফিলিস্তিনি জনগণের উপর ইসরাইলের এই নিষ্ঠুরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত জাতিগত নির্মূল (Ethnic Cleansing) নীতির অংশ। আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে ইসরাইল গাজার বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইসরাইলের এই যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন। জাতিসংঘ বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইসরাইল তা উপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য সংগ্রামের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসন ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে জোরালো কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে: “গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বর্বর হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আমরা ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে চবি পরিবারের সকল সদস্যকে এই সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
আমাদের করণীয়: কীভাবে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াবো?
১. সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা বাড়ানো: ফিলিস্তিনের বাস্তবতা সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করে বিশ্ব জনমত গঠন করতে হবে।
২. ইসরাইলি পণ্য বর্জন: যে সকল কোম্পানি ইসরাইলকে সমর্থন করে, তাদের পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
৩. আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি: জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য বৈশ্বিক ফোরামে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ দাবি করা।
৪. দান ও সাহায্য: ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য UNICEF, রেড ক্রিসেন্ট বা অন্যান্য বিশ্বস্ত সাহায্য সংস্থায় অনুদান দেওয়া।
ফিলিস্তিনের সংগ্রাম শুধু একটি ভূখণ্ডের লড়াই নয়, এটি ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই। ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে সমগ্র বিশ্বকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবেশ ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের পাশে আমাদের নৈতিক দায়িত্বেরই প্রতিফলন। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাই।
ফিলিস্তিনের শিশু, নারী ও নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষায় আমাদের কণ্ঠস্বর হোক শক্তিশালী!
ইসরাইলি গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী এক হোন!