ফের ইসরাইলের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল আমেরিকা। ট্রাম্পের আমলে নেতানিয়াহুর কদর বেড়েছে। গাজায় নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তাতে ইসরাইলকে সায় দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগেও ইসরাইলের কাছে ৭৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র–সরঞ্জাম বিক্রি করেছে আমেরিকা।
এবারও ইসরায়েলের কাছে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাস্ত্র, বুলডোজার ও প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০৪ কোটি ডলারের বোমা, ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের বুলডোজার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন।
ডিএসসিএ আরও বলেছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি শক্তিশালী ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে ইসরায়েলকে সহায়তা করা মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে গত মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলের কাছে ৭৪০ কোটি ডলার মূল্যের বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এদিকে আমেরিকা থেকে একটার পর জোগান পেয়ে খুশিতে টগবগ করে ফুটছে গণহত্যাকারী নেতানিয়াহু সরকার। বর্তমানে গাজাকে ধবংস করে দেয়া হয়েছে। হামাসকে উৎখাত অপারেশনের নামে গাজায় দিনের পর দিন গণহত্যা থেকে শুরু করে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। ইসরায়েলের দাবি, হামলায় সে দেশে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি নিহত হন। প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের অনেকে এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। কেউ কেউ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
অন্যদিকে এর জেরে ইসরায়েল গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। হামলায় ১ লাখ ১১ হাজার ৫৮৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকার।