মার্কিন রণতরির পর এবার ইসরাইলে হামলা করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি।
ইসরাইলের নেভাটি বিমান ঘাটি ও নেগেফ মরুভূমিতে এই হামলা হয়। হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ’প্যালেস্টাইন টু’ ব্যালেস্টিক মিসাইল। খবরটি নিশ্চিত করেছে ইসরাইলের সংবাদ মাধ্যম ’টাইমস অফ ইসরাইল’।
ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে মঙ্গলবার রাতে হামলার সময় দক্ষিণ ইসরাইলে সতর্ক মূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিক নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়, তবে আহত ও নিহতের ব্যাপারে কোন তথ্য প্রকাশ করেনি সংবাদ মাধ্যমটি।
হামলার কয়েক ঘন্টা পরে বিবৃতি দিয়েছেন হুতির মুখপাত্র বিগ্রিডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ারি দিয়ে হুতির এই কমান্ডার বলেন, গাঁজা উপত্যকায় হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত ইসরাইলে হামলা চালাবে হুতি সামরিক বাহিনী ।
আইডিএফ বলছে হুতির ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলটি তারা ধ্বংস করেছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে। মিসাইলটিকে সৌদি আরবের আকাশ সীমায় ভূপাতিত করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার থেকে হুতি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সেসব হামলায় নিহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ 53 জন ইয়েমেনী নাগরিক।
প্রতিশোধ নিতে হুতিরা পাল্টা হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কায় ছিল ইসরাইল। সেই প্রেক্ষিতে রোববার থেকে বিমান বাহিনীকে সতর্কবস্থায় রাখা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম টাইমস অফ ইসরাইল বলছে, ইরান সমর্থিত দুটি গোষ্ঠী 2023 সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলে 40 টির মত ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। এসময় ড্রোন হামলাও করা হয়।
ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীটি লোহিত সাগর ও আরব সাগরে চলাচলকারী শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করে। এসব হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে মারা যায় বেশ কয়েকজন নাবিক। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মার্কিন ও ইসরাইলি জাহাজ ।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি হিসেবে কাজ করে হুতি। ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সব ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেয় ইরান।
বিশ্বে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ লোহিত সাগরে গোষ্ঠীটির রয়েছে শক্তিশালী ঘাঁটি। ’দ্যা ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি’ বলছে, হুতির কাছে এমন সব জাহাজ বিধ্বংসী ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা 80 কিলোমিটার থেকে 300 কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে।
এর মধ্যে আছে সায়াত এবং সেজিল মিসাইল। এই থিংক ট্যাংক আরো বলছে, দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে হুতির হাতে আছে জাহাজ বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইল ।যেসব মিসাইল গুলোর অবস্থান নির্ণয় করাও কঠিন। দ্রুতগতির কারণে এসব মিসাইল মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণ করতে পারে ।