বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলা ইসরাইল বিরোধিতার মধ্যে নেতা নিয়াহুর জন্য এসেছে বিস্ফোরক আরেক দুঃসংবাদ। চিরশত্রু ইরান সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেব তায়েব এরদোয়ান। মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইসরাইলকে কেন্দ্র করে নতুন যুদ্ধের দামামা বাধছে তখন আয়াতুল্লাহ খামিনীর সাথে এরদোয়ানের জোট বাঁধার খবরে তোলপার শুরু হয়েছে ।
তেহরান আঙ্কারা বলছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতেই এরদোয়ানের এই সফর। তবে ফিলিস্তিন ও সিরিয়া নিয়ে ইসরাইলকে ঘিরে ফেলতেই যে এরদোয়ান খামিনী এক হচ্ছেন সেটা ভালোভাবেই টের পাচ্ছেন নেতা নিয়াহু।
শনিবার ইরান ও তুরস্কের দুই উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বসেন। সেখানেই এরদোয়ানের আসন্ন সফর নিয়ে আলোচনা হয়। আঞ্চলিক সংকট থেকে শুরু করে দ্বিপাক্ষিক নানা কারণে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান প্রতিনিধিরা।
তবে এরদোয়ানের ইরান সফর এমন এক সময়ে আসছে যখন ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংকটের সামনে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য। গাজায় ইসরাইলের একতরফা নিঃশংসতা আগের সব নজির ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি গাজার বাসিন্দাদের নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করারও চূড়ান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নেতা নিয়াহুর ইসরাইল ।
বেশিরভাগ মুসলিম দেশ ইসরাইলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রয়েছে চুপ করে দায় সাড়া বার্তা ছাড়া তেমন কোন তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
দেশগুলোর ফিলিস্তিনের হয়ে প্রতিরোধ দলগুলোকে নিয়ে একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে । আয়াতুল্লাহ খামিনীর ইরান আর মুসলিম দেশগুলোর চুপ করে থাকার সুযোগ নিয়ে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় হুমকি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে একা নয় সেই বার্তা দিতেই এবার আয়াতুল্লাহ খামেনীর দেশ সফরে যাচ্ছেন রিসেব তায়েব এরদোয়ান।
বিরোধী নেতাকে গ্রেপতার সহ বিভিন্ন সংকটে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তাল ছিল তুরস্ক । তবে দ্রুতই সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছেন এরদোয়ান । আর এখন তৎপর হয়ে উঠেছেন ফিলিস্তিন নিয়ে।
কয়েকদিন আগেই এরদোয়ান গাজার দখল নিয়ে ইসরাইলের মানচিত্র বড় করার স্বপ্ন যে কোনদিনও পূরণ হবে না সেই নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন । আর এবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য স্বয়ং আয়াতুল্লাহ খামিনীর সাথে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন এই নেতা।
এরদোয়ানের ইরান সফরের খবরে তোল শুরু হয়েছে নেতা নিয়াহুর প্রশাসনে। ইসরাইল সীমান্তের সিরিয়ায় তুরস্কের সেনা মোতায়নের মত বিষয়কে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই এরদোয়ানের দেশটির সাথে চূড়ান্ত উত্তেজনা চলছে নেতানিয়াহুর । এমনকি সিরিয়ায় তুরস্ক সামরিক বাহিনী মোতায়ন করলে সরাসরি সংঘাতের বার্তাও দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
তবে সেসব পাত্তা না দিয়ে তুরস্ক বরং সিরিয়ায় আরো প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে ।