চবিতে রমজান মাসে হিন্দুসহ অন্য ধর্মালম্বীদের হল জীবন ও শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা কী উন্নতি হবে?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো শিক্ষার্থীদের আবাসন ও দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। রমজান মাসে এই হলগুলোর জীবনযাত্রা ও খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো।

রমজান মাস ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ সময়। এই মাসে মুসলিম শিক্ষার্থীরা রোজা রাখেন এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে রমজান মাসে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। হলগুলোর ডাইনিং সিস্টেম এই সময়ে রোজাদার শিক্ষার্থীদের জন্য সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করে।

রমজান মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত বেশিরভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকে। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নেয়। যেমন, এক নং গেট রেলক্রসিং এর একটি ভাতের হোটেল এবং দুই নং গেটের একটি হোটেল চালু রাখা হয়। এই হোটেলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাবারের ব্যবস্থা করে। তবে, এই হোটেলগুলো শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। এবং অনেক দুরে দুরে হওয়ার কারণে অন্য ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অসুবিধা দেখা যাচ্ছিল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের পরে খাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি হলে সেহরির সময় ভোর রাতে রান্না করা হয় এবং ইফতারের পর রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এই খাবারগুলো সাধারণত সাদামাটা হলেও রোজাদার শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তবে, কিছু হলে অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই একসাথে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসুর) ক্যাফেটেরিয়ায় রমজান মাসে অন্য ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন করেন আজকে থেকে । চাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুরের খাবারের আয়োজন রাখা হয়। তবে, এই খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের সকাল এগারোটার মধ্যে টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে । চাকসু পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানার অনুরোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ রমজান মাসে হলগুলোর ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের খাবারের বিষয়ে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করে। রমজান মাসে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি যাতে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার পেতে পারেন।”

রমজান মাসে হলগুলোর ব্যবস্থা ও খাবারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। মুসলিম শিক্ষার্থীরা সাধারণত সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট হলেও অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থীরা কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হন। একজন হিন্দু শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা নিজেরাই রান্না করে খেতে বাধ্য হচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আমাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করত, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।”

রমজান মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহযোগিতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা যায়। মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থীরা একসাথে বসবাস করেন এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি দেখান। এই সম্প্রীতি ও সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো রমজান মাসে অন্য ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন আজকে থেকে । বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, চাকসু ও হল প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটানো হয়। তবে, কিছু অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে। রমজান মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবন ও খাবারের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে।

মোঃ রাফিকুল ইসলাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *