চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শিক্ষার পরিবেশের জন্য বিখ্যাত। বিশ্ববিদ্যালয়টির ৫ম সমাবর্তন আগামী ১৪ মে ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সমাবর্তন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ৫ম সমাবর্তনের প্রস্তুতি, এবং এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই ক্যাম্পাসটি “সৌন্দর্যের লীলাভূমি” হিসেবে পরিচিত।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৮টি অনুষদ, ৫টি ইনস্টিটিউট, ৪টি গবেষণা কেন্দ্র এবং ৪৫টি বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আধুনিক গবেষণাগার এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন আগামী ১৪ মে ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সমাবর্তনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ১১টি উপ-কমিটি ও কোর-কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিগুলো সমাবর্তনের বিভিন্ন দিক যেমন রেজিস্ট্রেশন, অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, এবং যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করছে।
৫ম সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আগামী ১৫ মার্চ ২০২৫ তারিখ থেকে শুরু হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক। রেজিস্ট্রেশন ফিস, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে যে এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য ১১টি উপ-কমিটি ও কোর-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন কমিটি, অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটি, নিরাপত্তা কমিটি, এবং যোগাযোগ কমিটি। প্রতিটি কমিটির দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বণ্টন করা হয়েছে, যাতে সমাবর্তনের প্রতিটি পর্যায়ে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।
৫ম সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল শিক্ষকবৃন্দ।
সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “এই সমাবর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় সমাপ্ত করে নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে যান। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এটি তাদের শিক্ষাজীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। সমাবর্তনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সাফল্যকে উদযাপন করতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রাণিত হতে পারে। এছাড়াও সমাবর্তনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী, শিক্ষক এবং পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।
সমাবর্তন শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা ও গবেষণার সাফল্যকে প্রদর্শন করতে পারে। এছাড়াও সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুধু অতীতের সাফল্যেই সন্তুষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান, গবেষণার মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প চালু করেছে, যা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সমাবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুধু অতীতের সাফল্যেই সন্তুষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মোঃ রাফিকুল ইসলাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি