চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টেলিটক পাহাড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পাহাড়ি গাছপালা পুড়ে ছাই

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের টেলিটক পাহাড়ে শুক্রবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাহাড়ের গাছপালা, লতা-গুল্ম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন লাগার ঘটনাটি দুপুর ১২টার দিকে শুরু হয়ে বিকাল ৩টার দিকে ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে টেলিটক পাহাড়ে আগুন লাগে। ধীরে ধীরে আগুন পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকাল ৩টার দিকে ভয়াবহ রূপ নেয়। হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার অভিযানের পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়।

চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ জানান, দুপুর ১২টার দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেও বিকাল ৩টার দিকে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যায় এবং হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

পাহাড়ে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে প্রক্টর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, “এখানে একটি মহল আছে যারা পাহাড়ে বিভিন্ন জিনিস চাষ করতে চায়। এ কারণে তারা পাহাড়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেয়। গত এক মাসে পাঁচবার পাহাড়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা ধারণা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মচারী এবং স্থানীয় লোকজন এ কাজে জড়িত। যারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গত কয়েক মাসে প্রায় পঞ্চাশটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রেল স্টেশন, ২ নম্বর গেট, ছাত্র হলের সামনে, প্রীতিলতা হলের পাশে এবং পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডগুলো ঘটে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। জটিল পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।

সহকারী প্রক্টর তানভীর স্যারের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় কৃষিকাজে নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মচারী এবং শ্রমিকরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দিয়ে থাকে। এ ছাড়া শুকনো মৌসুমে শুকনো পাতা এবং ধূমপানকারীদের অসচেতনতাও আগুন লাগার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণেও কিছু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গত কয়েক মাসে অর্ধশতাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিশেষ করে পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় কৃষিকাজে নিয়োজিত কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা দপ্তর বারবার এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করলেও স্থানীয় লোকজনের অসহযোগিতা এবং অসচেতনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

টেলিটক পাহাড়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য একটি বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে এনেছে। আগুন লাগার পেছনে মানবসৃষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, স্থানীয় জনগণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা যায়।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *