২০২৫ সালের ১৩ মার্চ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী ও তার সঙ্গে বহিরাগতদের নিয়ে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছাত্রীদেরও হেনস্তা করা হয়। ঘটনাটি ক্যাম্পাসের পুরাতন আইইআর ভবন প্রাঙ্গণে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার দিন চবি ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মরণে ও রাষ্ট্র গঠনে বিএনপির ৩১ দফার আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল চলছিল। এই অনুষ্ঠানের সেচ্ছাসেবক কার্ড ঝুলানো ছাত্রদল কর্মী শাকিব (লোকপ্রশাসন বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) ও আইন বিভাগের কাপিল (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) সহ মোট ৭-৮ জন শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা পুরাতন আইইআর ভবন প্রাঙ্গণে ইফতার করতে যাচ্ছিলেন। বাস্কেটবল গ্রাউন্ডের পাশ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বাইক প্রচণ্ড গতিতে আসে। বাইক চালক তাদের কারণে গতি কমাতে বাধ্য হয় এবং এ নিয়ে খারাপ ব্যবহার করে ও মারার অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা ইফতার করতে বসলে শাকিব ও কাপিলসহ বহিরাগতরা বাইক নিয়ে সেখানে আসে এবং কোনো কথাবার্তা না বলেই অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা মেয়েদের গায়েও হাত তোলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মী ও আনসার সদস্যরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, বরং তাদের চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন যে, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় তাদের ছবি ও ভিডিও করে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তারা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন:
- আজারুল ইসলাম বিপ্লব (ইংরেজি বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
- অর্ণব সরকার (ইংরেজি বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
- অঙ্কিতা বশাক (চারুকলা বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
- কনক কুমার চাকমা (চারুকলা বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
- মো. রাজিবুল হাসান রূপক (চারুকলা বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
- মো. নূর ইকবাল সানি (চারুকলা বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
- প্রকৃতি সাহা (চারুকলা বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
- জাকিয়া পারভিন (চারুকলা বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
- অনন্যা আচার্য (চারুকলা বিভাগ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)
চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন ঘটনাটি সম্পর্কে জানান, তিনি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় বাইরে কী হয়েছে সে ব্যাপারে খবর নিতে পারেননি। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাদের কেউ মব জাস্টিসের মতো ঘটনায় যুক্ত হননি। তবে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
চবির সহকারী প্রক্টর সাইদ বিন কামাল চৌধুরী জানান, তারা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গ্রহণ করেছেন এবং প্রক্টরিয়াল বডিতে বিষয়টি আলোচনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় ছাত্রদল কর্মী ও বহিরাগতদের সমন্বয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়টি সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ও তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, ছাত্র সংগঠনের নামে বহিরাগতদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী নাবিলা বিনতে বোরহান (১৯-২০ সেশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, তারা কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে ইফতার করতে যাচ্ছিলেন। বাস্কেটবল গ্রাউন্ডের পাশ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বাইক প্রচণ্ড গতিতে আসে এবং তাদের কারণে বাইক চালক গতি কমাতে বাধ্য হয়। এ নিয়ে বাইক চালক তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ও মারার অঙ্গভঙ্গি দেখায়। কিছুক্ষণ পর তারা ইফতার করতে বসলে শাকিব ও কাপিলসহ বহিরাগতরা বাইক নিয়ে সেখানে আসে এবং কোনো কথাবার্তা না বলেই অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা মেয়েদের গায়েও হাত তোলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মী ও আনসার সদস্যরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, বরং তাদের চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
নাবিলা আরও বলেন, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় তাদের ছবি ও ভিডিও করে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তারা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। এছাড়াও তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছ থেকে জবাবদিহিতা চান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্মী ও বহিরাগতদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। এছাড়াও তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছ থেকে জবাবদিহিতা চান। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। আশা করা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।
মোঃ রাফিকুল ইসলাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি