থাইল্যান্ডে পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কম্বোডিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, এর মধ্যেই থাইল্যান্ডে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল মাত্র তিন মাস ক্ষমতায় থাকার পর আজ শুক্রবার দেশের পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন। আগামী ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আগামী জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

গত দুই বছরে থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজনেস টাইকুন আনুতিন। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি জানুয়ারির শেষ নাগাদ পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু অনাস্থা ভোটের মুখে পড়ে তিনি নির্বাচন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

গত মাসে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন এবং তার দল ভূমজাইথাই পার্টি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।ওই দুর্যোগে অন্তত ১৭৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এদিকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটেই আসে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

শুক্রবার প্রকাশিত এক রাজকীয় ডিক্রিতে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, মাত্র তিন মাস আগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সংখ্যালঘু সরকার নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা সীমান্ত বিরোধ। তাই প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দিয়ে সাধারণ নির্বাচনই উপযুক্ত সমাধান।

তিনি বলেন, ‘সঠিক সমাধান হলো পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া… যা জনগণের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার একটি উপায়।’  আগে ধারণা করা হচ্ছিল, অনুতিন বড়দিনের আগে সংসদ ভাঙবেন না। কিন্তু সীমান্তে কম্বোডিয়ার সঙ্গে চলমান প্রাণঘাতী সংঘর্ষের মধ্যে তিনি হঠাৎই এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

অনুতিন গতকাল গভীর রাতে ফেসবুকে লিখেছিলেন, তিনি জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চান। তার এই পোস্ট থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তিনি সংসদ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে বরখাস্ত করে। এরপর ভুমজয়থাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *