লংগদুতে ধর্ষকের হাত থেকে তামাক ক্ষেতে লুকিয়ে রক্ষা পেলনা কিশোরী

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে (১৪)বছরের কিশোরীকে রাতে একাধিক বার ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী এক যুবক।

ধর্ষক মনির (৩২) বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক,সে রাঙামাটি জেলার, লংগদু উপজেলা, আটরকছড়া ইউনিয়নের তিন ব্রীজ বটতলা গ্রামের মো: আমির হোসেনের ছেলে।

ধর্ষিত কিশোরীর বাবা জানায়, রাতে হঠাৎ করে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশী মনিরের বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি আমার মেয়ে তোমাদের বাড়িতে আসছে কিনা তারপর মনিরের স্ত্রী জানায় আপনার মেয়ে আমাদের বাড়িতে আসেনি, আমার স্বামী বাড়িতে নাই তামাক ক্ষেতে গেছে , তখন সন্দেহ হলে তামাক ক্ষেতে খুজতে যাই , মনির আমাকে এবং আমার সাথে মানুষ দেখে পালাতে চেষ্টা করে। তারপর এলাকার লোকজন তাকে ঘেরাও করে আটক করেন। তারপরবর্তীতে এলাকার মানুষ জিজ্ঞাসাবাদ করলে মনির কিছু জানে না বলে স্বীকার করেন । তারপর স্থানীয়রা চাপ প্রয়োগ করলে মনির স্বীকার করে, কিশোরী তামাক ক্ষেতের চুল্লীতে আছে।পরবর্তীতে এলাকার লোকজন আমার মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় সেখান হতে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

কিন্তু ধর্ষনের মত এত বড় ঘটনা স্থানীয় মাতব্বররা মামলা মোকদ্দমা না করার জন্যবলে , এলাকায় বসে সমাধান করবে বলে কথা বলে। কিন্তু অন্যদিকে ধর্ষিতার বাবা মামলা করার জন্য থানায় আসলে, মাতব্বররা ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করে।

ধর্ষিতা কিশোরী বলেন,প্রতিবেশী মনিরের স্ত্রী আমার ও মনিরের সম্পর্ক আছে এমনটা আমার বাবাকে বলবে, তাই আমি ভয়ে তামাক ক্ষেতে পালাতে যাই। ওখানে মনির আমাকে তামাক ক্ষেতে দেখতে পেয়ে জোর করে তামাক ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে বিভিন্ন রকম কথা বলে এবং ভয়ভীতি দেখায়। চট্টগ্রাম নিয়ে আমাকে বিয়ে করার কথা বলে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাটিতে গামছা বিছিয়ে জোর করে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে।যখন আমার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি করে তখন মনির আমাকে তামাক চুলায় রেখে পালিয়ে যায়।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরীর বাবা রাতেই থানায় আসলে ধর্ষক মনিরকে গ্রেফতার করতে পুলিশ ঘটনা স্থলে যায়,কিন্তু আসামী পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত গ্রেফতার করার কার্যক্রম চলমান। কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও আলামত সংগ্রহ করে কোর্টে পাঠাবো।

কামরুজ্জামান

লংগদু প্রতিনিধি

Share With Your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *